প্রতিনিধি ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৭:১৪:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন।সম্প্রতি প্রচারিত এক অডিও বার্তায় তিনি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরাসরি নির্বাচনের মাঠে এসে নিজের জনপ্রিয়তা যাচাই করার চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন,আওয়ামী লীগ কখনো নির্বাচন বর্জনের রাজনীতি করে না।বরং দলটি সবসময় নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে। তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচন করতে চাই। বিএনপি নির্বাচন বর্জনের রাজনীতি করেছে,আওয়ামী লীগ তা করে না।” তিনি দাবি করেন,আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে দলটিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন,১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দলের নেতৃত্বেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে স্বাধীনতা এনে দেন।তার দাবি,আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটেই বারবার ক্ষমতায় এসেছে এবং গত দেড় দশকে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
দলের নেতাকর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন,আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং কারাগারে নির্যাতন চালানো হচ্ছে।তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি,সেনা কর্মকর্তা,পুলিশ সদস্য,মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ করে বলেন,“আমি ড. ইউনূসকেই চ্যালেঞ্জ করি—তিনি নির্বাচনে আসুন,জনগণের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করুন।” তিনি অভিযোগ করেন,নির্বাচনের নামে প্রহসনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণের চেষ্টা চলছে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,বর্তমান সংকটময় সময় বেশি দিন স্থায়ী হবে না। “ইনশাআল্লাহ এই অন্ধকার সময় কেটে যাবে,জনগণের জয় হবেই,”—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

















