নিজস্ব প্রতিবেদক।।৫ আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত কিছু বক্তব্য আংশিক সত্য হলেও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া তথ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্য নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
অস্ত্র লুট নিয়ে প্রকৃত বক্তব্য
গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন থানায় হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় এম সাখাওয়াত হোসেন একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেন।তিনি জানান,পুলিশের ব্যবহৃত ৭.৬২ মিমি রাইফেলসহ বিভিন্ন অস্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে দেখা যাচ্ছে,যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
২০২৪ সালের ১২ আগস্ট তিনি লুট হওয়া অস্ত্র নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাত দিনের সময়সীমা ঘোষণা করেছিলেন।
“শেখ হাসিনার বিকল্প নেই” — দাবি ভুয়া
সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত একটি বক্তব্যে দাবি করা হয়,তিনি নাকি বলেছেন “দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার বিকল্প নেই।” তবে যাচাইয়ে দেখা যায়,এমন কোনো মন্তব্য তিনি করেননি। বরং বিভিন্ন বক্তব্যে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে “স্বৈরাচারী” হিসেবে উল্লেখ করে তার শাসনামলের সুশাসন ঘাটতির সমালোচনা করেছিলেন।
অস্ত্র লুটের পরিসংখ্যান
অস্ত্র লুটের সংখ্যা নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে।পুলিশের প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৫,৫০০ অস্ত্র লুট হওয়ার তথ্য উঠে এলেও পরবর্তীতে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান,মোট লুট হওয়া অস্ত্রের সংখ্যা ছিল ৩,৬১৯টি।
এর মধ্যে প্রায় ২,২৫৯টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে,যা মোটের প্রায় ৬২ শতাংশ। ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত আনুমানিক ১,৩৬০টি অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা
বিশ্লেষকদের মতে,লুট হওয়া অস্ত্র সম্পূর্ণ উদ্ধার না হওয়া বর্তমান সময়েও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি।এম সাখাওয়াত হোসেনও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত অস্ত্র উদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন।
সারসংক্ষেপ
অস্ত্র লুট ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে তার উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়টি সত্য হলেও,পূর্ববর্তী সরকারকে ঘিরে “অস্ত্র উদ্ধারের নাটক” বা “শেখ হাসিনার বিকল্প নেই” — এ ধরনের বক্তব্য তার নামে প্রচারিত হলেও সেগুলোর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
![]()






















































সর্বশেষ সংবাদ :———