শিক্ষা

ক্ষমতা থাকলেও শিক্ষা কেন থেমে যায়? রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক

  প্রতিনিধি ২২ জানুয়ারি ২০২৬ , ৯:২৬:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শাসকগোষ্ঠীর পারিবারিক প্রভাব,যোগ্যতা ও শিক্ষাগত মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—রাষ্ট্রক্ষমতার সর্বোচ্চ স্তরে থাকা পরিবারের সন্তান হয়েও কেন কেউ উচ্চমাধ্যমিক (HSC) পর্যায়ের পর আর এগোতে পারে না?

বিশ্লেষকদের মতে,এটি অর্থ বা ক্ষমতার অভাবজনিত কোনো বিষয় নয়।বরং প্রশ্নটি ঘুরে ফিরে এসে দাঁড়াচ্ছে সদিচ্ছা, একাগ্রতা ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার জায়গায়।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন,রাষ্ট্রপতি,সেনাপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী—এমন অবস্থানে থাকা পরিবারের সন্তানের জন্য বিশ্বের যেকোনো নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরজা খোলা থাকে।কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন ব্যক্তিগত আগ্রহ ও পরিশ্রম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সমাজবিজ্ঞানী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“ক্ষমতা শিক্ষা অর্জনের পথ সহজ করে, কিন্তু শিক্ষা অর্জন নিজেই একটি শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া।রাজনৈতিক পরিবারের সন্তানদের অনেক সময় বাস্তব সংগ্রাম না থাকায় পড়াশোনার প্রয়োজনীয়তা তারা অনুভব করে না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আরেকটি অংশ মনে করেন,ক্ষমতার বলয়ে বড় হওয়ায় অনেক তরুণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বদলে প্রভাব,তদবির ও পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে। ফলে ডিগ্রি বা একাডেমিক যোগ্যতা তাদের কাছে গৌণ হয়ে পড়ে।

তবে সমালোচকদের প্রশ্ন আরও তীক্ষ্ণ—ডিগ্রি না থাকলেও যদি অভিজ্ঞতা,ত্যাগ ও রাজনৈতিক সংগ্রাম থাকত,তাহলে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা যেত।কিন্তু উত্তরাধিকারসূত্রে ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখার চেষ্টা হলে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে।

সুশীল সমাজের একাংশ বলছে,এই বিতর্ক আসলে কোনো ব্যক্তিকে ঘিরে নয়; বরং এটি রাষ্ট্র পরিচালনায় যোগ্যতা, শিক্ষা ও নৈতিকতার প্রশ্নকে সামনে এনেছে।তাদের মতে, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পারিবারিক পরিচয়ের চেয়ে শিক্ষা,দক্ষতা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়াই হবে রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক।

শেষ কথা:
ক্ষমতা সুযোগ এনে দেয়,কিন্তু শিক্ষা ও যোগ্যতা অর্জন করতে হয় নিজ উদ্যোগে।সেই জায়গাতেই আজকের এই বিতর্ক—যা রাজনীতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।

আরও খবর

Sponsered content