প্রতিনিধি ১ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:৩৯:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।আদালতে দাঁড়িয়ে সাংবাদিক আনিস আলমগীর যে কথা বলেছেন,তা কেবল একজন ব্যক্তির আত্মপক্ষসমর্থন নয়—এটি বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও বাকস্বাধীনতার এক নগ্ন বাস্তবচিত্র। “আমি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করি”—এই একটি বাক্যেই সাংবাদিকতার আত্মা ধরা পড়ে।দুই যুগ ধরে যিনি রাষ্ট্র,সরকার,ক্ষমতা ও সুবিধাভোগীদের প্রশ্ন করে এসেছেন,তাঁকে আজ কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। অপরাধ কী? সত্য বলা,নির্ভয়ে প্রশ্ন করা,রাষ্ট্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে কলম চালানো।

সাংবাদিকের কাজ কোনো দলের গোলামি করা নয়। তোষামোদ,নতজানুতা বা সুবিধাবাদিতা সাংবাদিকতার পরিচয় হতে পারে না।সাংবাদিকের কাজ হলো সপাটে প্রশ্ন করা, দুর্নীতির মুখোশ উন্মোচন করা,অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলমে শান দেওয়া।আনিস আলমগীর সেটাই করেছেন।তাঁর বক্তব্য ছিল প্রকাশ্য—গোপন ষড়যন্ত্র নয়,অন্ধকারে ফিসফিস নয়; ফেসবুকের খোলা মঞ্চে বলা কথা। তাহলে ভয়টা কোথায়? ভয়টা সত্যে।
ইউনূসের বাড়িতে হামলার প্রসঙ্গ হোক কিংবা ৩২ নম্বরের প্রতিহিংসার রাজনীতি—তিনি সতর্ক করেছেন,এই আগুন ফিরে আসবে।এটাই তো দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা।জুলাইয়ের স্পিরিট কীভাবে বাঁচবে,গণতন্ত্র কীভাবে শক্ত হবে—এই প্রশ্ন তোলাই কি অপরাধ? যদি হয়,তবে অভিযুক্ত আজ রাষ্ট্র নিজেই।
“ড. ইউনূস চাইলে সারা বাংলাদেশকে কারাগার বানাতে পারে”—এই উক্তি কোনো হুমকি নয়; এটি একটি নির্মম বাস্তবতার প্রতিবিম্ব।সাংবাদিকদের হাতে হাতকড়া পরানো মানে, রাষ্ট্র নিজের হাতেই হাতকড়া পরাচ্ছে।কারণ সাংবাদিক নীরব হলে রাষ্ট্র অন্ধ হয়,সমাজ বোবা হয়ে যায়।
মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সত্য বলার মূল্য যদি হয় মামলা, গ্রেপ্তার আর অপমান—তবে সেই রাষ্ট্র শান্তির পথে নয়,ভয়ের পথে হাঁটে।রাজাকার-জঙ্গিদের পক্ষে মৌন সম্মতি জানিয়ে যখন লাল বিপ্লবের সময় অনেকেই চুপ ছিল,সময়ের ধারাবাহিকতায় আজ অকপটে সত্য বলা মানুষদেরই টার্গেট করা হচ্ছে।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর হামলা,মবতন্ত্রের দাপট—এই পথের শেষ কোথায়? আমরা চাই আগুন নয়,যুক্তি; মব নয়,আইন; ভয় নয়,বাকস্বাধীনতা।আমরা চাই শান্তিময় রাষ্ট্র—যেখানে সাংবাদিকের কলমে শৃঙ্খল নয়,থাকবে স্বাধীনতা। সেই কলম সদর্পে প্রশ্ন করবে ক্ষমতাকে—এটাই গণতন্ত্রের শর্ত।
















