বিশেষ সংবাদদাতা।।দেশের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নদীপথ এবং সামুদ্রিক সীমানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এই আধাসামরিক বাহিনীর মূল লক্ষ্য “Guardian at Sea” বা সমুদ্রের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা।
কোস্ট গার্ড আইন অনুযায়ী বাহিনীটি মূলত উপকূলীয় নিরাপত্তা,জলদস্যুতা দমন,চোরাচালান প্রতিরোধ,অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম (SAR), প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তা,সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা এবং বন্দর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে নিয়োজিত থাকে।
কোস্ট গার্ডের প্রধান দায়িত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে,কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম প্রধানত সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় সীমাবদ্ধ।তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে—
উপকূলীয় অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জলদস্যুতা দমন
সমুদ্রপথে মাদক,অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধ
দুর্ঘটনায় পড়া জাহাজ বা নৌযানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান
ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তা
সুন্দরবনসহ উপকূলীয় সম্পদ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষা
সমুদ্র দূষণ প্রতিরোধ
চট্টগ্রাম,মোংলা ও পায়রা বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
নির্বাচনী দায়িত্বে সীমাবদ্ধতা
আইনজ্ঞদের মতে,নির্বাচনী সময় বা বিশেষ নিরাপত্তা অভিযানে দায়িত্ব পালন করলেও কোস্ট গার্ড সরাসরি কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে পারে না,যদি না একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকেন এবং আইনগত অনুমোদন দেন।
ভোলা–বরিশাল এলাকায় অভিযোগ
সাম্প্রতিক সময়ে ভোলা ও বরিশাল অঞ্চলে কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে স্থলপথে অভিযান পরিচালনার নামে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ,সন্ত্রাস দমন বা বিশেষ অভিযানের নামে শহর ও গ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ,আটক বা মামলায় জড়ানোর ঘটনা ঘটছে।
আইন বিশ্লেষকদের মতে,কোস্ট গার্ডের আইনগত দায়িত্ব মূলত উপকূলীয় ও জলপথকেন্দ্রিক হওয়ায় স্থলভাগে এ ধরনের অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি,কিছু ক্ষেত্রে এসব অভিযানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার বাদী হওয়ার ঘটনাও ঘটছে,যা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করছে।
সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিয়ে হাইকোর্টের রায়
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের দায়িত্ব ও স্বাধীনতা নিয়ে হাইকোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় উল্লেখযোগ্য।২০২২ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত ৫১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট বলেন,সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের “Fearless Watchdog” বা নির্ভীক পাহারাদার।
রায়ে বলা হয়—
একটি কার্যকর গণতন্ত্রে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অপরিহার্য।
সংবিধানের ৩৯(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার।
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের হয়রানি বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ করা সাংবাদিকদের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।
তবে আদালত এটিও উল্লেখ করেন যে,এই স্বাধীনতা সম্পূর্ণ অবাধ নয়; আদালত অবমাননা ও আইনের যুক্তিসঙ্গত সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য হবে।
প্রেস কাউন্সিলে যাওয়ার নির্দেশনা
একই সঙ্গে আদালত পর্যবেক্ষণ দেন যে, কোনো সংবাদ নিয়ে অভিযোগ থাকলে সরাসরি আদালতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
এই রায়টি বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ প্রদান করেন।
মানবাধিকার সংগঠনের দাবি
সাম্প্রতিক সময়ে সম্পাদক পরিষদ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার এবং সংবাদমাধ্যমের অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগের পাশাপাশি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
![]()





















































সর্বশেষ সংবাদ :———