প্রতিনিধি ২০ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:১৯:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ের মূল ভিত্তি হলো ইজাব (প্রস্তাব) ও গ্রহণ (কবুল)।তবে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার জন্য নির্দিষ্টভাবে ‘কবুল করলাম’ শব্দ উচ্চারণ করতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা কুরআন বা সহিহ হাদিসে নেই।বরং যে কোনো ভাষায় এমন শব্দ ব্যবহার করা হলে,যা দ্বারা বিয়ের স্পষ্ট সম্মতি ও স্থায়ী দাম্পত্য সম্পর্কের উদ্দেশ্য প্রকাশ পায়,তাতেই নিকাহ সহিহ হয়ে যায়—এমনটাই কুরআন–হাদিস ও ফিকহি ব্যাখ্যা থেকে প্রতীয়মান।

কুরআনের দলিল
সূরা নিসা (৪): ২১
আরবি:
> وَكَيْفَ تَأْخُذُونَهُ وَقَدْ أَفْضَىٰ بَعْضُكُمْ إِلَىٰ بَعْضٍ وَأَخَذْنَ مِنكُم مِّيثَاقًا غَلِيظًا
“তোমরা কীভাবে তা গ্রহণ করবে,অথচ তোমরা একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়েছ এবং তারা তোমাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার (মিসাকান গালিজা) গ্রহণ করেছে?”
ব্যাখ্যা:
আয়াতে বিয়েকে ‘দৃঢ় অঙ্গীকার’ বলা হয়েছে; কোনো নির্দিষ্ট শব্দের বাধ্যবাধকতা উল্লেখ নেই।তাফসিরকারদের মতে, এখানে বিয়ের চুক্তি ও পারস্পরিক সম্মতিই মূল বিষয়।
হাদিসের দলিল
১) বিয়েতে শব্দের অর্থই কার্যকর
সুনানে আবু দাউদ,হাদিস ২১৯৪ (হাসান)
আরবি:
> ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: النِّكَاحُ، وَالطَّلَاقُ، وَالرَّجْعَةُ
“তিনটি বিষয়—গম্ভীরভাবে বললেও কার্যকর,ঠাট্টা করে বললেও কার্যকর: বিয়ে,তালাক ও رجعة।”
ব্যাখ্যা:
এ হাদিস প্রমাণ করে,বিয়েতে উচ্চারিত শব্দের অর্থ কার্যকর হয়; শব্দটি ঠাট্টায় হলেও তা বাস্তব গণ্য হতে পারে।
২) ‘কবুল’ শব্দ ছাড়াই বিয়ের দৃষ্টান্ত
সহিহ বুখারি,হাদিস ৫০৮৭
আরবি:
> زَوَّجْتُكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ
“তোমার কাছে যে কুরআন আছে,তার বিনিময়ে আমি তোমার সঙ্গে তাকে বিয়ে দিলাম।”
ব্যাখ্যা:
এখানে ‘কবুল করলাম’ শব্দ নেই; তবু বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে—এটি নির্দিষ্ট শব্দের বাধ্যবাধকতা না থাকার স্পষ্ট প্রমাণ।
ফিকহি ব্যাখ্যা (সংক্ষেপ)
হানাফি মাযহাব: যে কোনো শব্দে যদি স্থায়ী বৈবাহিক সম্পর্কের অর্থ স্পষ্ট হয়, নিকাহ হয়।
রেফারেন্স: রদ্দুল মুহতার (ফাতাওয়ায়ে শামি),খণ্ড ৩; বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড ২
শাফেয়ি ও হাম্বলি: ‘নিকাহ’ ও ‘তাজউইজ’ শব্দে বেশি গুরুত্ব।
বিয়ে সহিহ হওয়ার সর্বসম্মত শর্ত (দলিলসহ)
সাক্ষী: “সাক্ষী ছাড়া নিকাহ নেই।” — সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ৪০৭৫
মোহর: “নারীদেরকে তাদের মোহর আনন্দচিত্তে প্রদান কর।” — সূরা নিসা (৪): ৪
একই মজলিসে ইজাব–গ্রহণ
সতর্কতা
আলেমরা সতর্ক করেছেন—বিয়ের শব্দ রসিকতা,নাটক বা অসচেতনভাবে উচ্চারণ করলেও তা কার্যকর হয়ে যেতে পারে; তাই শব্দ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সচেতনতা জরুরি।
উপসংহার
কুরআন,সহিহ হাদিস ও ফিকহের আলোকে সিদ্ধান্ত স্পষ্ট—বিয়ের জন্য ‘কবুল’ শব্দ নির্দিষ্ট নয়; যে কোনো ভাষায় স্পষ্ট সম্মতি প্রকাশ পেলেই এবং শরিয়তের শর্ত পূরণ হলেই নিকাহ বৈধ ও কার্যকর।










