ব্যবসা ও বাণিজ্য সংবাদ

কোনো দরদাম না করে হিমাগার থেকে সরাসরি মোকামে আলু পাঠাচ্ছেন-ব্যবসায়ীরা

  প্রতিনিধি ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ , ২:১৮:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি।।আলুর দাম খুচরা ও হিমাগার পর্যায়ে বেঁধে দিয়েছে সরকার।কিন্তু অধিকাংশ আলু ব্যবসায়ী এর তোয়াক্কা করছেন না।এক্ষেত্রে আইনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে বিকিকিনির কৌশল পাল্টেছেন তারা।কোনো দরদাম না করে হিমাগার থেকে সরাসরি মোকামে আলু পাঠাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা; রসিদ ছাড়াই।মোকাম থেকে যা লাভ হবে তা পরে উভয়ের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করবেন।দরদামের সুরাহা করে নিচ্ছেন মোবাইল ফোনে।

গতকাল রবিবার থেকে হিমাগার পর্যায়ে ২৭ টাকা কেজি দরে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ ভোগ্যপণ্যটি বিক্রির কথা থাকলেও অধিকাংশ হিমাগারই দেখা গেছে ক্রেতাশূন্য।আলাউদ্দিন নামের এক আলু ব্যবসায়ী বলেন,কোনো ধরনের দরদামে আলু বিক্রি করছি না,পাঠিয়ে দিচ্ছি মোকামে।পরে মোকাম থেকে যা লাভ হবে উভয়ের মধ্যে বণ্টন করে নেওয়া হবে।আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান একই কথা।তারা আরও জানিয়েছেন,ভোক্তা অধিকারের অভিযানের পর নতুন করে আলু ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে না জেলার হিমাগারগুলোতে।হিমাগার থেকে সরাসরি মোকামে পাঠিয়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।সেখানেই চলছে ক্রয়-বিক্রয়।

এদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মুন্সীগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, গতকাল দুপুরে সদর উপজেলার নিপ্পন কোল্ড স্টোরেজে অভিযান চালানো হয়।এ সময় সরকারের বেঁধে দেওয়া ২৭ টাকা দরে ২৭ হাজার ৭৫ কেজি আলু বিক্রি হয়েছে।তিনি বলেন,আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।গতকাল রবিবার অন্য সব কোল্ড স্টোরেজের সেট থেকে আলু কম নেমেছে। আমরা প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করব।প্রতিদিন এক একটি উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করা হবে।তিনি আরও জানান,একই দিন বিকালে খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম বেশি রাখায় ৩ ব্যবসায়ীকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা জমিমানা করা হয়েছে।

আব্দুস সালাম জানান,গত শনিবার রসরাজ বাবু নামে এক আলু ব্যবসায়ী পাকা রসিদ ছাড়া মোবাইল ফোনে দাম নির্ধারণ করে আলু বিক্রি করছিলেন।তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।এরপর তিনি সরকারের নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি করবেন এমন মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান। এর পরও তার সব কাগজপত্র তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।যদি তার কাগজপত্রে কোনো অমিল থাকে,তা হলে তার সব কাগজপত্র বাতিল হবে।তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোক্তা অধিকারের এই কর্মকর্তা জানান,আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আলুর বাজার স্বাভাবিক হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়,জেলায় এ বছর ভোক্তাদের মোট আলুর চাহিদা রয়েছে ৯৫ হাজার ৮৮ টন।আর জেলায় উৎপাদন হয়েছে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৬৩ টন।জেলার ১৬০টি হিমাগারে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মজুদ ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ১৮২ টন আলু।

জাতীয় পর্যায়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে আলুর উৎপাদন ছিল ১ কোটি ১১ লাখ ৯১ হাজার ৫০০ টন।দেশে আলুর চাহিদা ৭০ -৮০ লাখ টন।সেই হিসাবে ৩৬ লাখ টনেরও বেশি আলু উদ্বৃত্ত থাকার কথা।তবে হিমাগার মালিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন,হিমাগারে যে পরিমাণ আলু মজুদ আছে,তা ডিসেম্বরের আগেই শেষ হয়ে যাবে।এর পর দেশে আলুর সংকট তৈরি হবে।

মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ মুক্তারপুর ফেরিঘাট এলাকার রিভারভিউ কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক মো. রেজাউল করিম বলেন,আমাদেন ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৮০ হাজার বস্তা। সেখানে এবার ১ লাখ ৩২ হাজার বস্তা আলু মজুদ হয়েছে। একই অবস্থা দেশের সব হিমাগারে।ইতোমধ্যে অধিকাংশ আলু বিক্রি হয়ে গেছে।বিজ আলুসহ মাত্র ৭০ হাজার বস্তার মতো আলু আছে আমাদের।অন্য হিমাগারগুলোতেও একই অবস্থা।

মুন্সীগঞ্জ জেলা হিমাগার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার ম-ল বলেন,জেলা প্রশাসন থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে,আমরা তা মেনে চলব।কার্যত অবশ্য তেমনটা দেখা যাচ্ছে না।

আরও খবর

Sponsered content