প্রতিনিধি ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:২৫:১১ প্রিন্ট সংস্করণ
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।।সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ কে এম নুরুল হুদাকে জুতার মালা পরানোর ঘটনার ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করেছেন কথিত সমন্বয়ক আসরাফ মাহমুদ।নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন,বিপুল অঙ্কের ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে আসরাফ মাহমুদ লেখেন, “১৭০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপিকে আদর করে টাকা দেওয়ার শর্ত দিয়ে মনোনয়ন বৈধ করার জন্য আপনাদের বসানো হয়নি।” তিনি দাবি করেন,চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা ঋণখেলাপি হলেও নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন,“মানুষ হিসেবে টাকাটা দিয়ে দেওয়ার শর্তে ইসির এক সদস্য তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন।একজন ব্যক্তি যদি এত বিপুল ঋণ নিয়ে সংসদ সদস্য হতে পারেন,তাহলে ওই এলাকার ভবিষ্যৎ কী হতে পারে—তা নিয়ে জনগণের ভাবা উচিত।”
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাবেক সিইসি নুরুল হুদার পরিণতি থেকেও বর্তমান কমিশন শিক্ষা নেয়নি। তার ভাষায়,“আমাদের দেশের আমলাদের চামড়া জানোয়ারের চামড়ার চেয়েও শক্ত।”
এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে,আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগে তিনটি আপিল দায়ের করা হয়েছিল।তবে কমিশন তা খারিজ করে মনোনয়ন বহাল রাখে।এ বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়,তিনি মন্তব্য করেন—“মানুষ হিসেবে বলছি, টাকাটা দিয়ে দিয়েন।”
অন্যদিকে,নির্বাচন কমিশনে দেওয়া এক আবেদনে সংবিধানের ৬৬(গ) ও ৬৬(২ক) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি বিদেশি নাগরিকত্ব আইনগতভাবে ত্যাগ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না।আবেদনে হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১৬৪৬৩/২০২৩-এর আদেশ উদ্ধৃত করে বলা হয়,নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিদেশি নাগরিক হিসেবেই বিবেচিত থাকবেন।এই আদেশ বর্তমানে আপিল বিভাগেও বহাল রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে আসরাফ মাহমুদ আরও দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোটের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থাকবে না বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ করে লেখেন,“আপনারা যেমন ঋণখেলাপিকে আদর করছেন,জনগণও একদিন আপনাদের নুরুল হুদার মতো আদর করবে।”
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
















