অপরাধ-আইন-আদালত

উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের শপথগ্রহণ অবৈধ কি? নাম ও পরিচয় সংক্রান্ত গুরুতর আইনগত অসঙ্গতির অভিযোগ

  প্রতিনিধি ৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ৯:১৪:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ

উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের শপথগ্রহণ অবৈধ কি?  নাম ও পরিচয় সংক্রান্ত গুরুতর আইনগত অসঙ্গতির অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট।।আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের শপথগ্রহণের বৈধতা নিয়ে সম্প্রতি নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।অভিযোগ উঠেছে,শপথ গ্রহণের সময় তিনি যে নাম ব্যবহার করেছেন, তা তার দীর্ঘদিনের বৈধ ও নথিভুক্ত পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক—যা সংবিধান,শপথ সংক্রান্ত আইন এবং প্রশাসনিক বিধিমালার মৌলিক নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।বিষয়টি এখন জনস্বার্থে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি পর্যালোচনার দাবি তুলেছে।

শপথগ্রহণে নামের অসঙ্গতি

অভিযোগ অনুযায়ী,২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তিনি “আসিফ নজরুল” নামে শপথ গ্রহণ করেন।অথচ ওই সময় পর্যন্ত তার এসএসসি ও এইচএসসি সনদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও মাস্টার্স সনদ,বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির রেকর্ড,আয়কর নথি, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রায় সব সরকারি ও বেসরকারি নথিতে নাম ছিল নজরুল ইসলাম।

আইনজ্ঞদের মতে,রাষ্ট্রীয় শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির বৈধ ও নথিভুক্ত পরিচয় ব্যবহার বাধ্যতামূলক।বৈধ নাম ব্যতীত অন্য নামে শপথ গ্রহণ শপথের মৌলিক শর্ত লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। ফলে শপথের আইনগত বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

শপথের পর নাম পরিবর্তনের অভিযোগ

শপথ গ্রহণের প্রায় এক মাস পর,৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে এসএসসি/এইচএসসি সনদে নাম পরিবর্তন করে “আসিফ নজরুল” করা হয়েছে—এমন নথির তথ্য সামনে এসেছে।সংশ্লিষ্ট নাম সংশোধন কমিটির সভার কার্যবিবরণীতে ‘MD. Nazrul Islam’ থেকে ‘Asif Nazrul’ নাম পরিবর্তনের অনুমোদনের উল্লেখ রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,শপথের আগে যে নাম বৈধ ছিল না,শপথের পরে নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই ত্রুটি আইনগতভাবে বৈধ করা যায় না।শপথের বৈধতা শপথ গ্রহণের মুহূর্তেই নির্ধারিত হয়।

চাকরিরত অবস্থায় নাম পরিবর্তন: বিধি লঙ্ঘন?

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী,সাধারণত কোনো চাকরিতে কর্মরত ব্যক্তির নাম বা বয়স সংশোধন করা অনুমোদিত নয়—বিশেষ করে দীর্ঘ সময় পর এবং মৌলিক পরিচয় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে।

এই অবস্থায় প্রভাব খাটিয়ে নাম পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে তা কেবল অনিয়ম নয়,বরং সরাসরি বিধি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে মত দিয়েছেন প্রশাসনিক আইন বিশ্লেষকরা।এতে সংশ্লিষ্ট বোর্ড কর্মকর্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

শপথবাক্যে মিথ্যা পরিচয়ের অভিযোগ

শপথ গ্রহণের সময় উচ্চারিত শপথবাক্যে তিনি বলেন—“আমি আসিফ নজরুল শপথ করিতেছি যে…।” অভিযোগকারীদের দাবি,ওই সময় তার বৈধ পরিচয় ছিল নজরুল ইসলাম।ফলে রাষ্ট্রীয় শপথের মুহূর্তেই পরিচয় সংক্রান্ত অসত্য ঘোষণা করা হয়েছে,যা নৈতিকতা ও আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর বিষয়।

আইনি দৃষ্টিকোণ

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে—

শপথের সময় বৈধ নাম ব্যবহার না হলে শপথ চ্যালেঞ্জযোগ্য হতে পারে।

শপথ-পরবর্তী নাম সংশোধন শপথের ত্রুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ করে না।

যদি প্রমাণিত হয় যে বিধি লঙ্ঘন করে নাম পরিবর্তন করা হয়েছে,তবে প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রশ্ন উঠতে পারে।

উপসংহার

একজন সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে পরিচয় সংক্রান্ত এ ধরনের অসঙ্গতি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।সেই একই মানদণ্ড যদি একজন আইন উপদেষ্টার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হয়,তবে আইনের সমতার নীতি নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের মতে,বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কে না টেনে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনি সত্যতা নির্ধারণ করা জরুরি। শপথ বৈধ কি না,নাম পরিবর্তন কতটা বিধিসম্মত—এসব প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের পথ।

এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তথ্য সংশ্লিষ্ট নথি ও অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপিত।সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।

আরও খবর

Sponsered content