নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশের মসজিদগুলোর জনবল কাঠামো শক্তিশালী করা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় নীতিমালাটি প্রকাশিত হয়।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি এ নীতিমালা প্রণয়ন করে। চূড়ান্ত করার আগে দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা, ইমাম-খতিব ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দীক।
গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো
নীতিমালায় খতিব ছাড়া মসজিদের অন্যান্য জনবলের জন্য জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে। খতিবের বেতন চুক্তিপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাড়াভিত্তিক মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
নির্ধারিত বেতন কাঠামো হলো—
| পদ | গ্রেড | বেতন স্কেল (টাকা) |
|---|---|---|
| সিনিয়র পেশ ইমাম | ৫ম গ্রেড | ৪৩,০০০ – ৬৯,৮৫০ |
| পেশ ইমাম | ৬ষ্ঠ গ্রেড | ৩৫,৫০০ – ৬৭,০১০ |
| ইমাম | ৯ম গ্রেড | ২২,০০০ – ৫৩,০৬০ |
| প্রধান মুয়াজ্জিন | ১০ম গ্রেড | ১৬,০০০ – ৩৮,৬৪০ |
| মুয়াজ্জিন | ১১তম গ্রেড | ১২,৫০০ – ৩০,২৩০ |
| প্রধান খাদিম | ১৫তম গ্রেড | ৯,৭০০ – ২৩,৪৯০ |
| খাদিম | ১৬তম গ্রেড | ৯,৩০০ – ২২,৪৯০ |
আবাসন, সঞ্চয় ও অবসর সুবিধা
নীতিমালায় মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মীদের সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাসিক সঞ্চয়, চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা প্রদান এবং কল্যাণমূলক সুবিধার বিধান রাখা হয়েছে।
ছুটি ও নিয়োগ ব্যবস্থা
- প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৪ দিন সাপ্তাহিক ছুটি
- বছরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি
- প্রতি ১২ কর্মদিবসে ১ দিন অর্জিত ছুটি
নিয়োগের জন্য সাত সদস্যের বাছাই কমিটি থাকবে এবং তাদের সুপারিশ ছাড়া কোনো নিয়োগ দেওয়া যাবে না। নিয়োগপত্রে বেতন-ভাতা ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন পদ ও অন্যান্য নির্দেশনা
নীতিমালায় মসজিদে নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। নারীদের জন্য শরিয়তসম্মত পৃথক নামাজের স্থান রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি ১৫ সদস্যবিশিষ্ট করা হয়েছে, তবে আয়-আয়তন অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে।
নীতিমালা বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দিলে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি তা নিষ্পত্তি করবে। নতুন নীতিমালা জারির মাধ্যমে ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে।
জাতীয় খতিব পরিষদের সভাপতি মুফতি মাওলানা শামীম মজুমদার বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় আলেম সমাজ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের আশা করছে।
![]()






















































সর্বশেষ সংবাদ :———