প্রতিনিধি ২০ অক্টোবর ২০২৫ , ৯:২২:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহারসহ মোট ১২টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ আমলে নিতে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি যৌথভাবে খোলা চিঠি দিয়েছে।হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই চিঠিতে সংস্থাগুলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক মৌলিক স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গুম ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার তদন্ত শুরু করার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠকের জন্য প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ওই চিঠিতে বলা হয়,২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে এই স্বল্প সময়ে সরকার মানবাধিকার সুরক্ষা আরও বিস্তৃত করবে এবং স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে।
তবে চিঠিতে নিরাপত্তা খাতে কাঠামোগত সংস্কারের অভাব এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্যের জবাবদিহিতা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা না করার বিষয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
যে ছয়টি সংস্থা স্বাক্ষর করেছে:
এই খোলা চিঠিতে স্বাক্ষরকারী সংস্থাগুলো হলো- সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে),ফর্টিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ,রবার্চ এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটস এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।
১২ দফা সুপারিশের মূল বিষয়সমূহ:
মানবাধিকার সুরক্ষা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশে এই ১২ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়েছে।এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সুপারিশ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও বিচার:
আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে দেওয়া সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। সংস্থাগুলো এটিকে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও বহুদলীয় রাজনীতির পথে বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার: আগস্ট ২০২৪-এর আগে ও পরে দায়ের হওয়া সব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, বিশেষ করে যেগুলোর বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই,তা বাতিল করতে হবে।
জবাবদিহিতা ও বিচারের নিশ্চয়তা: জুলাই বিপ্লব এবং গত পনেরো বছরে সংঘটিত গুম,বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।আইসিটি-এর (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) আইনি কাঠামো,সম্পদ ও স্বাধীনতা শক্তিশালী করতে হবে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে স্থগিতাদেশ: পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে সাময়িক স্থগিতাদেশ ঘোষণা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
২. নিরাপত্তা ও আইন সংস্কার:
নিরাপত্তা খাতে সংস্কার: র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করা এবং সেনা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই)-এর ক্ষমতা সীমিত করা জরুরি। সমস্ত সামরিক কর্মীকে বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।
গুমের অপরাধ নির্ধারণ: আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী গুমকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ পাস করতে হবে (তবে মৃত্যুদণ্ড বাদ দিয়ে)।
দমনমূলক আইন বাতিল বা সংশোধন: ২০২৫ সালের ‘সাইবার সিকিউরিটি অধ্যাদেশ’,সন্ত্রাসবিরোধী আইন,বিশেষ ক্ষমতা আইন, লঅফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট এবং ফৌজদারি আইনে মানহানির ধারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মান অনুযায়ী বাতিল বা সংশোধন করতে হবে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সংস্কার: এনএইচআরসি’কে ‘প্যারিস প্রিন্সিপলে’র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত,স্বাধীন ও কার্যকর করতে হবে।
৩. অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ:
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষা: রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো বন্ধ করতে হবে।ক্যাম্পে চলাচল, জীবিকা ও শিক্ষার ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা কমাতে হবে।
সিভিল সোসাইটি ও এনজিও স্বাধীনতা: এনজিও বিষয়ক ব্যুরো সংস্কার করে নাগরিক সংগঠনগুলোকে হয়রানি বা বিদেশি অর্থায়নে বাধা দেওয়ার হাতিয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইসিসি’র সঙ্গে সহযোগিতা: বাংলাদেশ-মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) চলমান তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
















