প্রতিনিধি ১২ জানুয়ারি ২০২৬ , ৯:২২:২৩ প্রিন্ট সংস্করণ
ডেস্ক রিপোর্ট।।জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টার মামলায় আহতদের অস্তিত্ব বা চিকিৎসার কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গত ৫ নভেম্বর আদালতে দাখিল করা চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে মামলায় ‘তথ্যগত ভুল’ থাকার কথা উল্লেখ করে আপাতত সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞা জানান,জুলাই আন্দোলনে আহতদের একটি সরকারি গেজেট থাকলেও এ মামলায় যাদের আহত হিসেবে দেখানো হয়েছে, তাদের নাম সেখানে পাওয়া যায়নি।পাশাপাশি কোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল,ক্লিনিক কিংবা চিকিৎসাকেন্দ্রে তাদের চিকিৎসা নেওয়ারও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।ফলে মামলার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
এজাহার সূত্রে জানা যায়,২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় সাহেদ আলীসহ মোট ৯ জন আহত হন বলে দাবি করা হয়।এ ঘটনায় সাহেদের কথিত ভাই শরীফ ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করেন।পরে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই।
তবে তদন্তকালে আহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়,ঠিকানা কিংবা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়,বাদী শরীফকে একাধিকবার নোটিস দিয়ে আহতদের হাজির করতে এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য দিতে বলা হলেও তিনি তা করতে ব্যর্থ হন।এমনকি তার দেওয়া ঠিকানার সত্যতাও যাচাইয়ে মিল পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকার খোঁজ নিয়েও কোনো আহত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মামলার বাদী শরীফ অবশ্য দাবি করেন,ঘটনার সময় অনেকেই আহত হয়েছিল এবং অনেকে ফার্মেসি কিংবা বেসরকারিভাবে চিকিৎসা নিয়েছে।তিনি আরও বলেন,মামলা দায়েরের পর তিনি হুমকির মুখেও পড়েছেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন,প্রমাণহীন মামলার কারণে আসামিরা দীর্ঘদিন হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং বিচারিক প্রক্রিয়াও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পিবিআই জানায়,ভবিষ্যতে আহতদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য কিংবা চিকিৎসার প্রমাণ পাওয়া গেলে নতুন করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হতে পারে।তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মামলার অভিযোগ টিকিয়ে রাখার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

















