প্রতিনিধি ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৩:০৬:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ
অনুসন্ধানী রিপোর্ট।।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক নৈতিকতা ও আদর্শের প্রশ্নে যেসব নাম ঘুরেফিরে সামনে আসছে,তার মধ্যে অন্যতম আসিফ মাহমুদ শুলব ভূঁইয়া। একসময় গণআন্দোলনের মুখ হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি বর্তমানে একাধিক রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে এবং বাইরে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী,গণঅভ্যুত্থানের পরপরই তিনি নীতিগত অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে যুক্ত হন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি,উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে তিনি ঘুষ লেনদেন,বদলি বাণিজ্য,সুপারিশ বাণিজ্য ও টেন্ডার সংক্রান্ত অনিয়মে সম্পৃক্ত হন।
এনসিপির অভিযোগ: “সবকিছুর নীরব সাক্ষী আমরা”
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র একাধিক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,আসিফ মাহমুদের এসব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তারা দীর্ঘদিন ধরেই অবগত।তাদের ভাষায়,
> “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আদর্শকে তিনি প্রথমে বিক্রি করেছেন, পরে রাজনীতিকেও বিক্রি করেছেন। এখন দুর্নীতি ঢাকতেই একের পর এক রাজনৈতিক ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছেন।”
এনসিপির দাবি,পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও তথাকথিত ‘ডিলার গ্রুপ’-এর সঙ্গে সমঝোতায় যাচ্ছেন,যার লক্ষ্য একটাই—নিজের অতীত কর্মকাণ্ড আড়াল করে নির্বাচনী রাজনীতিতে নিরাপদ প্রবেশ।
গণঅধিকার পরিষদের আবেদনপত্রে নাম,নতুন প্রশ্ন
এই বিতর্কের মধ্যেই সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত একটি আবেদনপত্র ও অঙ্গীকারনামা। নথিতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়—
প্রার্থীর নাম: আসিফ মাহমুদ শুলব ভূঁইয়া
দল: গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)
দলীয় পদ: সাধারণ সম্পাদক
উদ্দেশ্য: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ
সংযুক্ত: রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি, ২০২৫ অনুযায়ী অঙ্গীকারনামা
এই নথি প্রকাশের পর প্রশ্ন উঠেছে—
👉 যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে এত গুরুতর অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে,তিনি কীভাবে একটি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন?
👉 দলীয় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া আদৌ কার্যকর ছিল কি না, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।
নীরবতা আরও সন্দেহ বাড়াচ্ছে
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আসিফ মাহমুদ শুলব ভূঁইয়া কিংবা গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,এই নীরবতা অভিযোগের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলছে।
একজন বিশ্লেষক বলেন,
> “যদি অভিযোগগুলো মিথ্যা হয়,তাহলে স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানানো উচিত।আর যদি সত্য হয়,তাহলে এটি শুধু ব্যক্তি নয়—পুরো রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ভয়ংকর সংকেত।”
উপসংহার
গণঅভ্যুত্থানের চেতনা যেখানে ছিল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, সেখানে সেই চেতনার নাম ভাঙিয়ে ব্যক্তিগত ক্ষমতা ও সুবিধা অর্জনের অভিযোগ রাজনীতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আসিফ মাহমুদ শুলব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি—নইলে এই বিতর্ক আগামী নির্বাচনী পরিবেশকে আরও কলুষিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।















