প্রতিনিধি ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ , ২:২৯:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের সামগ্রিক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নির্বাচনকালীন সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো,নাগরিক সেবা এবং আর্থিক খাতকে সুরক্ষিত রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের ওপর তিনি জোর দেন।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।সভায় নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য সাইবার হুমকি,গুজব,মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন মোকাবিলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং যেকোনো ধরনের সাইবার অপরাধ কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জনগণের আস্থা রক্ষায় সাইবার নিরাপত্তা একটি অপরিহার্য বিষয়।” তিনি আরও বলেন, সরকার ধাপে ধাপে সব ধরনের নাগরিক সেবাকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসছে।দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানরত নাগরিকরা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে এসব সেবা গ্রহণ করতে পারেন,সেজন্য সাইবার সুরক্ষা জোরদার করা জরুরি।
প্রধান উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত জনবলকে আরও দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।তিনি বলেন,প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে একটি রেটিং পদ্ধতির আওতায় আনতে হবে,যাতে সাইবার সুরক্ষার প্রকৃত অবস্থা ও সক্ষমতা মূল্যায়ন সহজ হয়।
আর্থিক খাতের নিরাপত্তার বিষয়েও কড়া বার্তা দেন প্রধান উপদেষ্টা।তিনি বলেন,“ফিনান্সিয়াল সেক্টরে কোনো ধরনের সাইবার অপরাধ করে যেন কেউ পার পেয়ে না যায়।” এ লক্ষ্যে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে বিচার বিভাগের পাশাপাশি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দেন তিনি।
সভায় ডাক,টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান,ইতোমধ্যে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ‘ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার (CII)’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।তিনি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন।একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে গুজব,মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুর সভায় জানান,ব্যাংকিং খাতের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং আরও কিছু কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।তিনি বিভিন্ন খাতে সাইবার হুমকি মোকাবিলায় সেক্টরাল সার্ট (CERT) গঠনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
সভায় জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য সচিব ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে এজেন্সির চলমান কার্যক্রম,ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং সাইবার পরিমণ্ডলে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও পরবর্তী প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রণীত ‘Cyber Incident Reporting and Response System’-এর বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এছাড়া সভায় আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল,তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী (এনডিসি), পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়,আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নীতিগত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন জোরদার করা হবে,যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও নাগরিক সেবা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।

















