প্রতিনিধি ২৭ এপ্রিল ২০২৫ , ৫:৩২:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।কাশ্মীরে টানা তৃতীয় রাতের মতো ভারত ও পাকিস্তানের সেনাদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।আজ রবিবার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
কাশ্মীরের পর্যটনকেন্দ্র পাহেলগামে ২২ এপ্রিলের হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে’ মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে ভারত।ইসলামাবাদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে,ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে দায়ী করার প্রচেষ্টা ‘গুরুত্বহীন’ এবং যেকোনো ভারতীয় পদক্ষেপের জবাব দেওয়া হবে।দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক বর্তমানে বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী নৌমহড়া চালিয়েছে এবং যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ছবি প্রকাশ করেছে।নিরাপত্তা বাহিনী পাহেলগাম হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের খোঁজে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
সীমান্তে পাকিস্তানের ‘উসকানিমূলক’ গুলির জবাবে ভারতীয় সেনারা ‘উপযুক্ত’ অস্ত্র ব্যবহার করে পালটা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বলে দাবি করেছে সেনাবাহিনী।তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
ভারতীয় পুলিশ তিনজন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ওয়ান্টেড পোস্টার প্রকাশ করেছে।তাদের মধ্যে দুইজন পাকিস্তানি এবং একজন ভারতীয়।তারা পাকিস্তানভিত্তিক,জাতিসংঘ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সদস্য বলে অভিযোগ
পাহেলগাম হামলার তদন্তভার ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) হাতে নেওয়া হয়েছে।সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ভারতীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা দূরপাল্লার নির্ভুল হামলা সক্ষমতা যাচাই এবং প্রদর্শন করেছে।সরকারি সূত্রের বরাতে ‘দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানিয়েছে, ‘সামরিক প্রতিশোধ’ নেওয়া হবে এবং এর ধরন নিয়ে আলোচনা চলছে।
কাশ্মীরের পেহেলগামে আবারও ফিরতে শুরু করেছেন পর্যটকরা। গত ২২ এপ্রিল হামলার পর থেকে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। আজ রবিবার থেকে পর্যটকরা সেখানে যেতে শুরু করলে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মাঝে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
হামলার দুইদিন পরেই পর্যটকদের জন্য পেহেলগাম উন্মুক্ত করা হয়। শুধুমাত্র হামলার স্থান জিরো পয়েন্ট বন্ধ ছিল। তারপরও পরিস্থিতি থমথমে ছিল।কেউ ঘুরতে যেতে চাইছিলেন না। ফলে বিপাকে ছিল স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।পর্যটনকে কেন্দ্র করেই তাদের ব্যবসা হয়ে থাকে।
এমন পরিস্থিতিতে একদল পর্যটক কাশ্মীরে ঘুরতে গেছে।তারা বলছেন,‘আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম আসবো না। পরে সিদ্ধান্ত বদলাই। ‘
এনডিটিভি জানায়,পর্যটক আসলেও পরিস্থিতি এখনো পাল্টায়নি। ‘মিনি সুইজারল্যান্ড খ্যাত’ এই অঞ্চলে প্রতিদিন ৫০০০ পর্যটক থাকতো।সেখানে এখন ১০০ পর্যটকও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।












