নিজস্ব প্রতিবেদক।।এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হলেও, ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ভোটব্যাংক।অতীতে যেসব আসনে আওয়ামী লীগ প্রভাবশালী ছিল—এমন প্রায় ৩০টি আসনে—এবার দলটি নির্বাচনে নেই। ফলে বিএনপি,জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এসব আসনে আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের সমর্থন পেতে সক্রিয় প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
বিভিন্ন জেলায় তৎপরতা
প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী,মাদারীপুর, শরীয়তপুর,ফরিদপুর,গোপালগঞ্জ,বাগেরহাট,ঠাকুরগাঁও, জামালপুর ও ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগের ভোট টানতে নানা কৌশল নেওয়া হয়েছে। কোথাও সাবেক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, কোথাও প্রয়াত নেতাদের কবর জিয়ারত, আবার কোথাও মামলা-হয়রানি থেকে রক্ষা ও নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির বহু নেতা-কর্মী আত্মগোপনে আছেন,কেউ কেউ কারাবন্দী।এ পরিস্থিতিতে অনেক এলাকায় তাঁদের নিরাপদে ফেরার আশ্বাসও শোনা যাচ্ছে।
মাদারীপুর: কবর জিয়ারত থেকে সমর্থন ঘোষণা
মাদারীপুরের তিনটি আসন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
মাদারীপুর-১: বিএনপি প্রার্থী নাদিরা আক্তার আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর কবর জিয়ারত করেন।এরপর স্থানীয় আওয়ামী লীগের অন্তত ২০ জন নেতা তাঁর প্রতি সমর্থন জানান।
মাদারীপুর-২: বিএনপি প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া ও বিদ্রোহী প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খানের মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন।
মাদারীপুর-৩: আওয়ামী লীগের কিছু কর্মীকে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় দেখা গেছে।
শরীয়তপুর: দলবদলের প্রবণতা
১৯৯১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত শরীয়তপুরের তিনটি আসনেই আওয়ামী লীগ জয়ী হয়েছিল।তবে সাম্প্রতিক সময়ে শতাধিক নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন,দল থেকে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকায় এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গোপালগঞ্জ: দুর্গে নীরব প্রচারণা
গোপালগঞ্জ দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি। যদিও প্রকাশ্যে দলবদলের ঘটনা কম,তবুও প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের কাছে টানতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন।কেউ কেউ টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
ফরিদপুর: আশ্বাসের রাজনীতি
ফরিদপুরের কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগের নেতারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।বিএনপি প্রার্থীরা আশ্বাস দিচ্ছেন—যাঁরা মামলার আশঙ্কায় এলাকা ছেড়েছেন,তাঁরা ফিরে এলে সহযোগিতা পাবেন।
বাগেরহাট ও ঠাকুরগাঁও: সংখ্যালঘু ভোটে নজর
বাগেরহাটে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে হয়রানি না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সংখ্যালঘু ভোটারদের গুরুত্ব বেশি। বিএনপি ও জামায়াত—উভয় দলের প্রার্থীরাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন।
জামালপুর ও ময়মনসিংহ: বাস্তবতার রাজনীতি
জামালপুর ও ময়মনসিংহের একাধিক আসনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিএনপি বা জামায়াতের পক্ষে কাজ করতে দেখা গেছে।স্থানীয় পর্যায়ে অনেকেই বলছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় বাস্তব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
উপসংহার
সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগ-অধ্যুষিত আসনগুলোতে দলটির ভোট কোন দিকে সরে যায় এবং কতটা সরে যায়—তার ওপরই এবারের নির্বাচনের অনেক ফলাফল নির্ভর করছে। আওয়ামী লীগ না থাকলেও তাদের ভোটব্যাংক হয়ে উঠেছে নির্বাচনের অন্যতম নির্ধারক উপাদান।
![]()

















































সর্বশেষ সংবাদ :———