নিজস্ব প্রতিবেদক।।আইন,বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল তার দায়িত্বকালীন বিভিন্ন কার্যক্রম ও সংস্কারের বিস্তারিত তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন,ব্যক্তিগতভাবে নয় বরং মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত টিমওয়ার্কের মাধ্যমে গত দেড় বছরে আইন ও বিচার ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন,অনেকেই অভিযোগ করেন তিনি দেশের জন্য দৃশ্যমান কিছু করতে পারেননি।তবে বাস্তবে আইন মন্ত্রণালয় এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন এনেছে,যার প্রতিটি কাজে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
আইনি সংস্কারে বড় পরিবর্তনের দাবি
উপদেষ্টার তথ্য অনুযায়ী,জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মোট ২২টি আইনি সংস্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন আন্তর্জাতিক মানে হালনাগাদ এবং গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে স্বতন্ত্র জুডিসিয়াল কাউন্সিল ব্যবস্থা
বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা জোরদার করতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা
বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত চালু
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫
গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের বিধান
দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে গ্রেফতার ও বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি
বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা (ADR) চালু
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সময়সীমা ও জবাবদিহি সংযোজন
সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারাসমূহ বাতিল করে নতুন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ
অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের বিধান
প্রবাসীদের জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রক্রিয়া সহজীকরণ
প্রবাসী ভোটারদের জন্য ডাক ব্যালট ব্যবস্থা
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন
মন্ত্রণালয় দাবি করেছে,বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক করতে ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে—
বিচার বিভাগে পদ সৃষ্টির ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের অধীনে প্রদান
আদালত প্রাঙ্গণে তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন
কেন্দ্রীয়ভাবে আদালতের কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম
অনলাইন সাক্ষ্যগ্রহণ ও ই-কজলিস্ট চালু
ঢাকা ও চট্টগ্রামে পরীক্ষামূলক ই-ফ্যামিলি কোর্ট
৯ জেলায় ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা
আইন মন্ত্রণালয়ে ডি-নথি ও শতভাগ অনলাইন অ্যাটেস্টেশন
জাতীয় আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা ও ১৬৬৯৯ হটলাইন চালু
দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত পৃথকীকরণ
রেকর্ডসংখ্যক ১৬০৫টি নতুন আদালত সৃষ্টি
রেজিস্ট্রেশন সেবা ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ
প্রায় ২৪ হাজার হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার
আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক হিসেবে চিহ্নিত ২৩,৮৬৬টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।এছাড়া সাইবার আইনের অধীনে দায়ের হওয়া ৪১০টি স্পিচ-সংক্রান্ত মামলা এবং গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ মামলাও প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
গণহত্যা সংক্রান্ত বিচার কার্যক্রম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে আইনগত ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।ইতোমধ্যে চারটি মামলার রায় হয়েছে এবং আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি বৃদ্ধি
উপদেষ্টার দাবি, গত দেড় বছরে—
২,২৮১টি নথি নিষ্পত্তি হয়েছে (আগের সময়ে ছিল ১,২৩৫টি)
৫৭৮টি বিষয়ে আইনি মতামত দেওয়া হয়েছে
প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হয়েছে
প্রধান বিচারপতিসহ আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নিয়োগে সহায়তা দেওয়া হয়েছে
সমালোচনার জবাব
স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল বলেন,সমালোচনা থাকতেই পারে, তবে সমালোচনার আগে কাজগুলো সম্পর্কে জানার আহ্বান জানান তিনি।তিনি উল্লেখ করেন,দীর্ঘ সময় অফিসে থেকে ও ছুটির দিনেও কাজ করে মন্ত্রণালয়ের টিম এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে।
উল্লেখ্য,এসব তথ্য উপদেষ্টার নিজস্ব বক্তব্য ও মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত হিসাবের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।বাস্তবে এসব সংস্কারের কার্যকারিতা ও জনসাধারণের ওপর প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক ও নীতিগত বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।












































সর্বশেষ সংবাদ :———