মাজহারুল ইসলাম।।“প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ”—বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের এই অমর বাণী কি আজ কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ? যখন কোনো ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকারি কর্মকর্তা একজন সাংবাদিককে ধমক দিয়ে বলেন—“কথা বলতে পারবেন না” বা “অর্ডার নাই”—তখন প্রশ্ন জাগে,আমরা কি সত্যিই স্বাধীন দেশের নাগরিক, নাকি এখনো আমলাতান্ত্রিক প্রভুত্বের ছায়াতেই বাস করছি?
⚖️ আইনের বাস্তবতা: কোথাও নেই ‘স্যার’ বলার বাধ্যবাধকতা
প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা মাঝে মাঝে আইনের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—
১. সংবিধানে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই
বাংলাদেশের সংবিধানের কোথাও কোনো নাগরিক বা সাংবাদিককে সরকারি কর্মকর্তাকে “স্যার” বলে সম্বোধন করা বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
২. Public Servant—জনগণের সেবক
বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এবং অন্যান্য আইনি কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তারা “Public Servant” বা জনগণের সেবক।অর্থাৎ তারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেন জনগণের সেবায়।তাই কাউকে “স্যার” বলা একটি সামাজিক সৌজন্য হতে পারে,কিন্তু এটি কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নয়।
৩. সাংবাদিক প্রশাসনের অধীন নন
সাংবাদিক কোনো সরকারি কর্মচারী নন।প্রশাসনের প্রটোকল ও সাংবাদিকতার পেশাগত নীতিমালা আলাদা।সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো প্রশ্ন করা,জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জনগণের পক্ষে সত্য তুলে ধরা।
🖋️ সাংবাদিকতা কি অপরাধ?
আইনের অজুহাতে সাংবাদিকদের প্রশ্ন থামিয়ে দেওয়া বা ভয় দেখানো নতুন কিছু নয়।কিন্তু মনে রাখতে হবে—
সাংবাদিক যখন প্রশ্ন করেন,তিনি কেবল ব্যক্তি হিসেবে প্রশ্ন করেন না; তিনি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে প্রশ্ন করেন।
কোনো সরকারি কর্মকর্তার উদ্ধত আচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহার থাকলে সাংবাদিকের অধিকার আছে তা জনসমক্ষে তুলে ধরার।
সম্মান কখনো জোর করে আদায় করা যায় না।
চেয়ারের ক্ষমতা দেখিয়ে “স্যার” ডাকানো যায়,কিন্তু মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করতে হলে প্রয়োজন বিনয়,দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্ব।
📚 ‘Sir’ শব্দের বাস্তব অর্থ
“Sir” কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ (Acronym) নয়।এটি মূলত ফরাসি শব্দ “Sire” থেকে এসেছে,যা পরে ইংরেজিতে সম্মানসূচক সম্বোধন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।এর শিকড় লাতিন “Senior” শব্দে,যার অর্থ বয়োজ্যেষ্ঠ বা সম্মানিত ব্যক্তি।
ইন্টারনেটে অনেক সময় “Sir” এর ভুয়া পূর্ণরূপ যেমন “Slave I Remain” প্রচার করা হয়,যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বাস্তবে এটি কেবল একটি ভদ্র ও সম্মানসূচক সম্বোধন,এর বেশি কিছু নয়।
📢 আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য
সাংবাদিক অপরাধী নন
ভিডিও ধারণ,প্রশ্ন করা বা তথ্য সংগ্রহ করা সাংবাদিকতার স্বাভাবিক কাজ।
আচরণগত সংস্কার প্রয়োজন
সরকারি কর্মকর্তাদের মনে রাখা উচিত—তাদের বেতন আসে জনগণের টাকায়।তাই ক্ষমতার অহংকার নয়,োলদায়িত্বশীল আচরণই হওয়া উচিত তাদের পরিচয়।
কলমের শক্তি থামানো যাবে না
সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্য প্রকাশ।কোনো পদমর্যাদার দাপট সেই সত্যকে দীর্ঘদিন আটকে রাখতে পারে না।
উপসংহার
সাংবাদিকরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।কিন্তু কোনো ব্যক্তির অহংকার বা ক্ষমতার প্রদর্শনের কাছে তারা নতজানু হতে বাধ্য নন।
৫৩ নং ওয়ার্ড হোক কিংবা জাতীয় পর্যায়—অবিচারের বিরুদ্ধে “দৈনিক জাতীয় পতাকা”-র কলম চলবেই।
“দাসত্ব নয়, পেশাদারিত্ব চাই;
আমলাতন্ত্রের দাপট নয়,জনগণের শাসন চাই।”
![]()


















































সর্বশেষ সংবাদ :———