প্রতিনিধি ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ , ৩:৪২:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন,অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুমতি ছাড়া ইউনূসের বিষয়ে বিবৃতি-সংক্রান্ত বক্তব্য দিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমরান আহম্মদ ভূঁইয়া শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছন।শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর উইং।

মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন,ইমরান আহমদ ভুঁইয়া ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে আছেন।অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন না।হয় তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল অনুমতি নিয়ে কথা বলবেন।নয়তো পদত্যাগ করে তার মতামত প্রকাশ করবেন।শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন তিনি।
এর আগে সোমবার শান্তিতে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বিবৃতিতে সই করবেন না বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।এদিন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,অধ্যাপক ড. ইউনূসের পক্ষে ১৬০ জনের বেশি নোবেল বিজয়ী ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অনেকেই বিবৃতি দিয়েছেন যে- তাকে বিচার বিভাগীয় হয়রানি করা হচ্ছে।তার বিপরীতে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে একটি বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে।
গত মাসে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করা এবং বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৭৫ বিশ্বনেতা খোলা চিঠি দিয়েছেন।সেই চিঠিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি তাকে (ড. ইউনূস) লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করায় আমরা উদ্বিগ্ন এবং এটি তাকে বিচারিকভাবে হেনস্তা করার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া বলে আমাদের বিশ্বাস।’
এরও আগে চলতি বছর মার্চে প্রথমবারের মতো ড. ইউনূসের ‘নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলা চিঠি লেখেন ৪০ বিশ্বনেতা।মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে চিঠিটি ছাপা হয়েছিল।
ড. ইউনূসের বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে লেখা খোলা চিঠির বিষয়টি সুনজরে দেখছে না সরকার।গত ২৯ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভদ্রলোকের যদি এতই আত্মবিশ্বাস থাকে যে তিনি অপরাধ করেননি,তাহলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিবৃতি ভিক্ষা করে বেড়াতেন না।যারা বিবৃতি দিয়ে তার বিচার স্থগিত করতে বলেছেন তাদের বলছি,বিবৃতি না দিয়ে আইনজীবী পাঠান। এক্সপার্টরা দেখুক,অনেক কিছু পাবেন।আমাদের দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। সবকিছুই আইন মতো চলে।কেউ যদি ট্যাক্স (কর) না দেয় আর যদি শ্রমিকের অর্থ আত্মসাৎ করে,শ্রমিকদের পক্ষ থেকে যদি মামলা করা হয়,আমাদের কি সেখানে হাত আছে যে মামলা বন্ধ করে দেবো?’
‘নোটিশ দেওয়া হয়েছে,অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে কর্মরত সবাইকে সেই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করার জন্য।আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি,এই বিবৃতিতে আমি স্বাক্ষর করবো না’
– ইমরান আহমেদ ভূঁইয়া, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল
পরে ওই চিঠির বিষয়ে এক বিবৃতিতে ১৪ দল জানায়, চলমান বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে বেআইনি ও অযৌক্তিক দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট দেশি-বিদেশি কিছু ব্যক্তির খোলা চিঠি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে হুমকি।
এ বিষয়ে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদও নিন্দা করে।গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের ১৭১ বিশিষ্ট নাগরিক,বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবী এক বিবৃতিতে বলেন, ওই খোলা চিঠির বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন বিচার বিভাগের ওপর স্পষ্ট হুমকি হিসেবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।দেশের বিবেকবান নাগরিক হিসেবে আমরা বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়ার ওপর এ ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।
বিদেশিদের লেখা ওই খোলা চিঠির প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,দেশের ৫০টি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকগণ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল,বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ ও ১৩টি জাতীয়ভিত্তিক সাংস্কৃতিক ফেডারেশন।

















