নিজস্ব প্রতিবেদক।।অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে এলেও এখনো উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মাথায় ২০২৪ সালের আগস্টে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁর সরকারের সব উপদেষ্টার সম্পদের হিসাব প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।তবে প্রায় দেড় বছর পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।পরবর্তীতে কয়েক দফায় উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১ জন উপদেষ্টা দায়িত্ব পালন করছেন।এ ছাড়া উপদেষ্টা পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী,বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ আরও কয়েকজন দায়িত্বে রয়েছেন।
দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন,সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের আয় ও সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করবেন এবং পর্যায়ক্রমে এটি সব সরকারি কর্মকর্তার জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে।একই সঙ্গে ন্যায়পাল নিয়োগে অধ্যাদেশ প্রণয়নের ঘোষণাও দেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা,২০২৪’ জারি করা হয়। নীতিমালায় বলা হয়,উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন দাখিলের পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে সম্পদের বিবরণী জমা দেবেন।প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বিবেচনায় তা প্রকাশ করবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,বেশির ভাগ উপদেষ্টাই তাঁদের সম্পদের বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান,জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।সংশ্লিষ্ট কয়েকজন উপদেষ্টাও প্রথম আলোকে জানিয়েছেন,তাঁরা নির্ধারিত সময়েই সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছেন।
তবে জমা পড়লেও এখনো কোনো উপদেষ্টার সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হয়নি।এদিকে একাধিকবার সময় বাড়ানোর পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।আইনগত সময় থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।এরপর দায়িত্ব নেবে নতুন সরকার।
এ বিষয়ে সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন,উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।সময় শেষের দিকে গেলে তা দেখা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলো এ বিলম্বকে নেতিবাচকভাবে দেখছে।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন,উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশের ঘোষণা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপনের সুযোগ তৈরি করেছিল।কিন্তু তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় জনগণ প্রত্যাশিত সুফল পায়নি। এটি সরকারের দেওয়া অঙ্গীকারের বরখেলাপ এবং একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত।
![]()


















































সর্বশেষ সংবাদ :———