প্রতিনিধি ২ জানুয়ারি ২০২৬ , ৮:৫০:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করা হলে বাংলাদেশে আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে।বিষয়টি ব্যক্তির গোপনীয়তার অধিকার (Privacy) এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা (Data Protection)–এর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রহিত হলেও এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর আইন বিদ্যমান রয়েছে।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নাজমুল হাসান বলেন, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ পরিবর্তিত হয়ে বর্তমানে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ,২০২৫ কার্যকর হয়েছে।এ অধ্যাদেশে মতপ্রকাশ-সংক্রান্ত বিতর্কিত ধারাগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে এবং আগের অনেক মামলা বাতিল হয়েছে।তবে এর অর্থ এই নয় যে,অনুমতি ছাড়া ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।”
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নয়,প্রযোজ্য নতুন আইন কাঠামো
আইনজীবীরা জানান,ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রহিত হওয়ায় এখন আর ওই আইনের অধীনে মামলা করা যাবে না।বরং অপরাধের ধরন অনুযায়ী পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন,দণ্ডবিধি এবং দেওয়ানি আইন–এর আশ্রয় নিতে হবে।
ফৌজদারি আইনি প্রতিকার
পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন,২০১২: যদি অনুমতি ছাড়া প্রকাশিত ছবি বা ভিডিও অশ্লীল বা যৌন সুড়সুড়িমূলক হয়, তাহলে এই আইন প্রযোজ্য হবে।
ধারা ৮(১): কোনো ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তার ছবি বা ভিডিও ধারণ,প্রকাশ বা প্রচার।
শাস্তি: কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানাসহ কঠোর দণ্ডের বিধান রয়েছে।
দণ্ডবিধি, ১৮৬০: প্রকাশিত তথ্য বা ছবি যদি মানহানিকর হয় এবং ভুক্তভোগীর সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করে,তবে দণ্ডবিধির ধারা প্রযোজ্য হবে।
ধারা ৪৯৯: মানহানির সংজ্ঞা।
ধারা ৫০০: সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।
দেওয়ানি প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণ
ভুক্তভোগী চাইলে দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করতে পারেন।এ ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া ছবি বা তথ্য ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা যায়।
এ ছাড়া দ্রুত ছবি বা তথ্য অপসারণের জন্য দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ অনুযায়ী আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction) চাওয়া যেতে পারে।
সাংবিধানিক সুরক্ষা
আইনজীবীরা আরও জানান,বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৩ অনুযায়ী নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবন ও যোগাযোগের গোপনীয়তা সুরক্ষিত।আদালত প্রয়োজনে এই সাংবিধানিক অধিকারকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।
ভুক্তভোগীর করণীয় কী
আইনজীবী মো. নাজমুল হাসানের পরামর্শ অনুযায়ী—
১. অনুমতি ছাড়া প্রকাশিত ছবি বা তথ্যের স্ক্রিনশট,লিংক ও সময়-তারিখ সংরক্ষণ করতে হবে।
২. নিকটস্থ থানায় অথবা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ জানাতে হবে।
৩. অপরাধের ধরন অনুযায়ী ফৌজদারি মামলা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য দেওয়ানি মামলা করা যেতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন না থাকলেও অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার এখনো কার্যকরভাবে বিদ্যমান রয়েছে—শুধু সঠিক আইন ও ধারা নির্বাচন করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
















