রাজনীতি

অতিরিক্ত বোঝাই নৌকা : উপেক্ষিত সতর্কতার রাজনৈতিক পরিণতি

  প্রতিনিধি ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:১০:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ

অতিরিক্ত বোঝাই নৌকা : উপেক্ষিত সতর্কতার রাজনৈতিক পরিণতি

নোট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা চতুর্থবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।ওই সময় দলীয় সাফল্য, আন্তর্জাতিক অভিনন্দন এবং কূটনৈতিক স্বীকৃতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।তবে সেই বিজয়ের পরপরই ‘অতিরিক্ত বোঝাই করে নৌকা যেন ডুবে না যায়’—শিরোনামে একটি সতর্কতামূলক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হয়,যা সময়ের ব্যবধানে নতুন করে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আওয়ামী লীগ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলটির চারটি মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ,সমাজতন্ত্র,গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।নৌকা প্রতীক দলটির ঐতিহ্য,স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।স্বাধীনতা যুদ্ধের পর দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নের পথে দলটি অগ্রসর হয়। সেই ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা চতুর্থবার সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়,সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনের ফল ঘোষণা হয়।এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পায় ২২৩টি আসন,জাতীয় পার্টি ১১টি,স্বতন্ত্র প্রার্থী ৬২টি এবং অন্যান্য দল ২টি আসন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয় দলীয় শৃঙ্খলা ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সতর্কতামূলক বক্তব্যে বলা হয়,আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যেখানে প্রায় ২০০ আসনই যথেষ্ট ছিল,সেখানে অতিরিক্ত আসন ও স্বতন্ত্র বিজয়ীদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা ভবিষ্যতে ‘অতিরিক্ত বোঝা’ হয়ে উঠতে পারে।বিশেষ করে বিদ্রোহী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পুনর্বাসন জোট রাজনীতি ও দলীয় ঐক্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।

বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়,ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে ‘হাইব্রিড’ রাজনীতিকদের একটি অংশ আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সরকার পতনের পর তাদের কেউ কেউ দেশত্যাগ করে বিলাসী জীবনযাপন করছেন,অথচ তৃণমূলের বহু নেতাকর্মী অতীতে দলীয় পরিচয়ের কারণে নির্যাতন,মামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন।

১৬ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে ফেসবুক স্ট্যাটাস ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ব্যক্তিগত বার্তার মাধ্যমে এসব বিষয়ে সতর্ক করা হলেও সে সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগও তোলা হয়।সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দলীয় আত্মসমালোচনার ঘাটতি এবং আত্মঅহমিকাই আজকের রাজনৈতিক সংকটকে গভীর করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন,দলীয় শুদ্ধতা ফিরিয়ে আনা, স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী রাজনীতির বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিগত অবস্থান এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত না করা গেলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত আরও দুর্বল হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট মহল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছে—সময় থাকতে সাংগঠনিক সংস্কার ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণই হতে পারে নৌকার ভারসাম্য রক্ষার শেষ সুযোগ।

<img src="http://jugantorbarta.com/wp-content/uploads/2026/01/1768579499337.jpg" alt="" width="720" height="642" class="alignnone size-full wp-image-61260" />

আরও খবর

Sponsered content