নিজস্ব প্রতিবেদক।।ফেসবুকে প্রকাশিত কথিত একটি ‘অতি গোপন’ রাষ্ট্রীয় নথি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।আলী জুয়েল নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত ওই স্ট্যাটাসে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (NSI) ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ বিশেষ প্রোটোকল বলে দাবি করা একটি নথি সংযুক্ত করা হয়।তবে নথিটির সত্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি।
ফেসবুকে প্রকাশিত নথিতে উল্লেখ করা হয়,এটি “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার,মহাপরিচালকের কার্যালয়,জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর,সেগুনবাগিচা,ঢাকা” থেকে জারি করা। নথিটির গোপনীয়তা স্তর হিসেবে লেখা রয়েছে—“অতি গোপনীয় (TOP SECRET/EYES ONLY)”।নথিতে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
নথির বিষয় হিসেবে বলা হয়েছে—“ফলাফল ঘোষণা ও নির্বাচন পরবর্তী স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত যৌথ বিশেষ প্রোটোকল”।
নথির আদর্শিক ও কৌশলগত ভিত্তি অংশে বলা হয়েছে,
“বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার দর্শন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রেখে রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।”
ফলাফল প্রক্ষেপণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা শিরোনামের অংশে নথিতে উল্লেখ রয়েছে,“চূড়ান্ত ফলাফল: ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক ও সংশ্লিষ্ট জোটের বিজয়কে একটি অপরিবর্তনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।”
এছাড়া পোস্টাল ব্যালট প্রসঙ্গে বলা হয়েছে,“পোস্টাল ব্যালট সমন্বয়: বিশেষ প্রাক্কলন অনুযায়ী,পোস্টাল ব্যালটের নূন্যতম ৭৫% সমর্থন ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের অনুকূলে প্রদর্শিত হবে। এটি একটি অপরিবর্তনীয় গাণিতিক বেঞ্চমার্ক।”
নথিতে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ প্রোটোকল অংশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে বলা হয়,“ফলাফল ঘোষণার ২ ঘণ্টা পূর্ব থেকে সকল কৌশলগত পয়েন্টে বাহিনী মোতায়েন থাকবে।”
এবং
“ঘোষণার ১০ মিনিট পূর্ব থেকে তারা যেকোনো অননুমোদিত জমায়েত বা বিশৃঙ্খলা দমনে ‘ফুল অ্যাকশন মোড’-এ সক্রিয় হবে।”
নথির শেষাংশে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে,
“এই নথির কোনো অংশ বা অস্তিত্ব অননুমোদিত কোনো পক্ষকে জানানো রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে গণ্য হবে।”
ফেসবুকে নথিটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও আলী জুয়েলের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।একই সঙ্গে নথিটি ভুয়া না সত্য—সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে,এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা না এলে জনমনে বিভ্রান্তি আরও বাড়তে পারে। তারা মনে করেন,নথিটি গুজব হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে খণ্ডন করা এবং সত্য হলে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।



![]()








































Recent Comments