নিজস্ব প্রতিবেদক।।আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় অংকের বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।নির্বাচন পরিচালনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামগ্রিকভাবে এবারের নির্বাচনী ব্যয় অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সম্মানী ভাতা
ইসির সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা দুই দিনের জন্য সম্মানী ও যাতায়াত ভাতা পাবেন। নির্ধারিত ভাতা অনুযায়ী প্রিজাইডিং অফিসার পাবেন মোট ১০ হাজার টাকা,সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ৮ হাজার টাকা এবং পোলিং অফিসার ৫ হাজার টাকা।
তবে সরকারি বিধি অনুযায়ী এই অর্থ থেকে ১০ শতাংশ ভ্যাট বা আয়কর কর্তন হতে পারে।উল্লেখ্য,২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে প্রিজাইডিং অফিসারের এক দিনের সম্মানী ছিল ৪ হাজার টাকা,যা এবার বাড়ানো হয়েছে।
নিরাপত্তা খাতে বড় বরাদ্দ
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ,র্যাব,আনসার, বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে।নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী এবারের নির্বাচনী বাজেটের প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশই ব্যয় হবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেছনে।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১,২০০ কোটি টাকা।এর মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে আনসার বাহিনী—৫৪৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা।পুলিশ পাবে ২৭০ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৮৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
এদিকে আনসার সদস্যদের দৈনিক রেশন ভাতা বাড়িয়ে ১২০ টাকা করা হয়েছে।অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্বের ধরন ও ঝুঁকি অনুযায়ী টিএ/ডিএ ও বিশেষ ডিউটি ভাতা পাবেন।
নির্বাচনী বাজেটের চিত্র
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মোট নির্বাচনী বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৩,১৫০ কোটি টাকা।এর মধ্যে প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে নিরাপত্তা খাতে এবং অবশিষ্ট অর্থ ব্যবহার করা হবে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা,লজিস্টিকস ও প্রশাসনিক কাজে।
তুলনামূলকভাবে দেখা যায়,২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২,২৭৬ কোটি টাকায়।এবারে ব্যয় সেই অঙ্ককেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
প্রতারণা নিয়ে সতর্কতা
নির্বাচনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সম্মানী ভাতার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারক চক্র সক্রিয় হওয়ার বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।ভাতা প্রদানের নামে ব্যক্তিগত তথ্য বা বিকাশ নম্বর চাওয়ার ঘটনায় কেউ যেন প্রতারিত না হন,সে জন্য কেবলমাত্র অফিশিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে ইসি।
বিস্তারিত তথ্যের জন্য নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে নজর রাখতে বলা হয়েছে।
![]()








































Recent Comments