চট্টগ্রাম ব্যুরো।।রমজান মাসকে সামনে রেখে বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলী নদীতে ‘ভাসমান গুদাম’ তৈরি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মূল্য বাড়ানোর অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) চট্টগ্রাম বন্দরে দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান হোসেন।
সমকালসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘সাগরে ভাসছে ৬০০ গুদাম,ছয় আমদানিকারকের জিম্মায় রোজার বাজার’ শীর্ষক প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়,রমজানকে কেন্দ্র করে ছয় বড় আমদানিকারকসহ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রায় ১০ লাখ টনের বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে অন্তত ৬০০টি লাইটার জাহাজ দেশের নদী ও সাগরে মাসের পর মাস ভাসিয়ে রেখেছে।
এসব লাইটার জাহাজে গম,ভুট্টা,ছোলা,ডাল,সয়াবিন ও চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য বহন করা হলেও সেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘাটে খালাস করা হচ্ছে না। ফলে একদিকে লাইটার জাহাজের কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে গিয়ে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ জানান, রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অসৎ উদ্দেশ্যে মূল্য বাড়ানোর অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।তাঁর ভাষায়, “আমদানিকারকেরা ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘদিন লাইটার জাহাজ থেকে পণ্য খালাস না করে নদী ও সাগরে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।”
অভিযানকালে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন দপ্তরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগসংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বাভাবিক অবস্থায় একটি লাইটার জাহাজ ১৫ দিনের মধ্যে পণ্য খালাস করে পরবর্তী ট্রিপের জন্য প্রস্তুত হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে অনেক জাহাজ ৩০ থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত পণ্যবোঝাই অবস্থায় নদী ও সাগরে ভাসমান রয়েছে।
এ সময় নৌপরিবহন অধিদপ্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিয়েও অনুসন্ধান চালানো হয়।নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর স্মারক নম্বর–৭১৩ মূলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর জারি করা এক অফিসিয়াল পত্রে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) ছাড়া কোনো লোকাল এজেন্ট ও পণ্যের এজেন্টকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত না রাখার নির্দেশ দেন।
দুদক জানায়,ওই পত্রের আলোকে বর্তমানে নৌপরিবহন অধিদপ্তর থেকে অনাপত্তি সনদ প্রদান করা হচ্ছে না বলে মহাপরিচালক নিশ্চিত করেছেন।এরপরও বন্দর কর্তৃপক্ষ নির্দেশনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেছে কি না,তা যাচাই করতে ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজার (অপারেশন),হারবার মাস্টার ও ডেপুটি কনজারভেটর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।
দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়,অভিযানে সংগৃহীত সব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ শেষে এনফোর্সমেন্ট টিম দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিশনের কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
![]()






































Recent Comments