মাজহারুল ইসলাম।।বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন কিছু ঘটছে—এমন ভান করা হলেও বাস্তবে পুরোনো চিত্রটাই বারবার ফিরে আসছে।তেলের সঙ্গে তেল,পানির সঙ্গে পানি—সংকট ঘনালেই সবাই নিজের আসল পরিচয়ে ফিরে যায়।বিএনপি থেকে যারা অন্য প্ল্যাটফর্মে গিয়েছিলেন,তারা আবার বিএনপিতেই।জামায়াত থেকে যারা বের হয়েছিলেন,তারাও ফিরে গেছেন আপন ঠিকানায়।এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। রাজনীতিতে আদর্শ নয়,সুবিধাই শেষ কথা।
যারা এই দলবদলের কারিগর ছিলেন,যারা ‘যোগদান রাজনীতি’র দালালি করেছেন,তারা আজও বহাল তবিয়তে আছেন। কোনো দায় নেই,কোনো জবাবদিহি নেই।ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে তারা একচুলও সরে যাননি।
কিন্তু প্রকৃত বিপদে পড়েছেন কারা?
পড়েছেন মাঠের সেই কর্মীরা—যারা মিছিল করেছে,মামলা খেয়েছে,লাঠি খেয়েছে,পোস্টার লাগিয়েছে,অথচ কখনো সিদ্ধান্তের টেবিলে ডাক পায়নি। কনুইয়ের গুঁতা খেয়ে যারা বারবার সাইডলাইনে ঠেলে দেওয়া হয়েছে,আজ তাদেরই ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে ব্যর্থতার দায়।
এই দৃশ্য নতুন নয়।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বহু আগেই এর রূপক এঁকে গেছেন ‘পুরাতন ভৃত্য’ কবিতায়।ঘরে কিছু হারালেই গিন্নির একটাই রায়—
“কেষ্টা ব্যাটাই চোর।”
আজকের রাজনীতিতে কেষ্টারা কারা?
তারাই—যারা পুরোনো,যারা দুর্বল,যারা প্রশ্ন করার সাহস হারিয়েছে। যারা নেতৃত্ব দেয়নি,কিন্তু সব বোঝা বইতে হয়েছে।
আর চোর কারা?
যারা আদর্শের নামে সুবিধা আদায় করেছে,সময় বুঝে রং বদলেছে,প্রয়োজনে মানুষ ভাঙিয়েছে,আবার প্রয়োজন ফুরোলেই হাত ধুয়ে ফেলেছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তাদের দিকে সন্দেহের আঙুল কখনোই ওঠে না।
এই রাজনীতি মাঠকর্মীবান্ধব নয়,ন্যায়ভিত্তিকও নয়।এটি একধরনের নিষ্ঠুর ক্ষমতার খেলা—যেখানে উপরের স্তর সব সময় নিরাপদ,আর নিচের স্তর সব সময় দায়ী।
যতদিন এই সংস্কৃতি চলবে,ততদিন রাজনীতিতে কেষ্টা বদলাবে,কিন্তু কেষ্টা ব্যাটাই চোর—এই বাক্য বদলাবে না।
![]()






































Recent Comments