নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক যাত্রা নানা বিতর্ক,উত্থান-পতন এবং নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে।স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পুনরুত্থান—দলটির ভূমিকা বারবার জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
১৯৭১: মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকা
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয়।সে সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তার জন্য রাজাকার,আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী গঠনে দলটির নেতাকর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা রাখে।স্বাধীনতার পর এই ভূমিকার কারণে দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়।
১৯৯১: পুনরাগমন ও সহিংসতার অভিযোগ
দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার পর ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে জামায়াত আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়।১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলটি ১৮টি আসন পেয়ে ‘কিং-মেকার’-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।একই সময়ে তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর সহিংসতা, বিশেষ করে ‘রগ কাটা’সহ নানা অভিযোগ ওঠে,যা জনমনে আতঙ্ক তৈরি করে।
২০২৪: নিষেধাজ্ঞা ও নাটকীয় প্রত্যাবর্তন
২০২৪ সালের ১ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।তবে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।এর ফলে দেড় দশকের বেশি সময় পর জামায়াত প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসে এবং বড় আকারের সমাবেশ আয়োজন শুরু করে।
ধর্ম ব্যবহারের বিতর্ক
জামায়াতের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।সমালোচকদের কেউ কেউ দলটিকে বিদ্রূপ করে ‘জান্নাতের টিকিট বিক্রেতা’ বলে আখ্যা দেন।যদিও দলটি বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
বর্তমান অবস্থান
আসন্ন ২০২৬ সালের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী ১১ দলীয় একটি নির্বাচনী জোট গঠন করেছে।একই সঙ্গে তারা ২৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে নতুন করে ভোটের মাঠে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
![]()








































Recent Comments