নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশের বিচার ব্যবস্থা,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এবং ন্যায়বিচারের সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য এ কে আজাদ।তিনি অভিযোগ করেছেন,সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া আটক ব্যক্তিদের জামিন দেওয়ার কারণে হাইকোর্টের একজন বিচারককে তাঁর বেঞ্চ হারাতে হয়েছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে এই অভিযোগ তুলে ধরেন।
‘জামিন দিলে বেঞ্চ থাকে না’
এ কে আজাদ বলেন,তিনি এক বিচারপতির কাছে জানতে চেয়েছিলেন—কেন এফআইআরে নাম না থাকা এবং নির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও মানুষকে আটক করা হচ্ছে এবং কেন তারা জামিন পাচ্ছেন না।জবাবে ওই বিচারপতি তাকে জানান,এ ধরনের মামলায় জামিন দেওয়ার পর তিনি দেখেন তাঁর আর কোনো বেঞ্চ নেই।
বিচারপতির উদ্ধৃতি দিয়ে এ কে আজাদ বলেন,
> “একজন জাস্টিস বললেন—আমি কিছুদিন বেল (জামিন) দিয়েছিলাম, তারপর দেখি আমার বেঞ্চ নাই।”
পুলিশি হয়রানি ও ‘বকশিশ’ বাণিজ্যের অভিযোগ
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে এ কে আজাদ অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষকে নির্বিচারে আটক করা হচ্ছে। থানায় নিয়ে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের কাছে টাকা বা ‘বকশিশ’ দাবি করা হয়।
তিনি বলেন,
> “যে বকশিশ দিতে পারে সে ছাড়া পায়, আর না পারলে তারে মাদক আইনের মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।”
তার দাবি, এসব মিথ্যা মামলায় আটক ব্যক্তিরা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা জেলা জজ আদালতেও সহজে জামিন পাচ্ছেন না। এমনকি হাইকোর্টেও হাতেগোনা কয়েকটি বেঞ্চ ছাড়া জামিন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
মেধা পাচার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
ন্যায়বিচারের এই পরিস্থিতিকে দেশের জন্য ভয়াবহ বলে মন্তব্য করে এ কে আজাদ বলেন, এর ফলে মেধাবী তরুণরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন,
> “এইটা যদি হয় ন্যায়বিচারের প্রতীক, তাহলে দেশ ও অর্থনীতি এগোবে কী করে?”
নিজের পরিবারের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন,
> “জিনিয়াস ছেলে-মেয়েদেরকে আমরা দেশে আসতে বলব কেন? আমার ছেলেকে আমি কিভাবে দেশে রাখব? দেশের যদি মেধা না থাকে, দেশটাকে এগিয়ে নিবে কারা?”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ন্যায়বিচারের এই সংকটের ব্যাখ্যা তাদেরই দিতে হবে, কারণ তারাই নিয়মিত আদালতের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত।
![]()








































Recent Comments