নিজস্ব প্রতিবেদক।।২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসিক ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা চালু করলে সরকারের ওপর বড় ধরনের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হবে।তবে অর্থনীতিবিদদের মতে,দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো গেলে এটি বাস্তবায়নযোগ্য হতে পারে।
ফ্যামিলি কার্ডে ব্যয়ের হিসাব
বর্তমানে প্রস্তাবিত হিসেবে মোট ৪ কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার ফ্যামিলি কার্ডের জন্য মাসে ২,৫০০ টাকা বরাদ্দ দিলে—
মাসিক ব্যয়: ১০,২৫২.৫ কোটি টাকা
বার্ষিক ব্যয়: ১,২৩,০৩০ কোটি টাকা
এ অঙ্কটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭,৯০,০০০ কোটি টাকার মোট বাজেটের প্রায় ১৫.৫৭ শতাংশ।
এর আগে মাসিক ২,০০০ টাকা ধরে করা হিসাবে ব্যয় ছিল ৯৮,৪২৪ কোটি টাকা, যা বাজেটের ১২.৪৬ শতাংশ। অর্থাৎ ভাতা ২,৫০০ টাকা হলে বাজেটের ওপর চাপ আরও ৩.১১ শতাংশ বাড়বে।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বর্তমান বরাদ্দ
২০২৫-২৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯১,২৯৭ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ১১.৫৬ শতাংশ।
তবে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (CPD)-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে,পেনশন ও কৃষি ভর্তুকি বাদ দিলে প্রকৃত সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ কার্যত বাজেটের মাত্র ৮ শতাংশের কাছাকাছি।
অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করেন,উন্নয়ন প্রকল্পে অপচয় রোধ ও প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো গেলে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাজেটের ১৫–২০ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব। মুদ্রাস্ফীতির চাপে থাকা নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।
টিসিবি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড: বাস্তব চিত্র
বর্তমানে টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রায় ৫৭ লাখ পরিবার ভর্তুকি মূল্যে পণ্য কিনতে পারছে।আগে কার্ড সংখ্যা ১ কোটি থাকলেও এনআইডি যাচাই ও তথ্য হালনাগাদের কারণে প্রায় ৪৩ লাখ কার্ড নিষ্ক্রিয় বা যাচাই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য,২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ১ কোটি উপকারভোগীর ডাটাবেজ সম্পন্ন করা।এর বাইরে সাভার,আশুলিয়া ও গাজীপুর এলাকার ১ লাখ পোশাক শ্রমিক পরিবারকে নতুন করে টিসিবির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
টিসিবি পণ্য ও ভর্তুকির চাপ
টিসিবি সাধারণত সয়াবিন তেল,মশুর ডাল,চিনি ও চাল ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করে।
একটি পরিবার গড়ে ৪৫০–৫৪০ টাকার প্যাকেজে পণ্য পেলেও এর বাজারমূল্য প্রায় ৯৫০–১,০০০ টাকা।
সয়াবিন তেলে মাসিক ভর্তুকি: প্রায় ৪০০ কোটি টাকা
টিসিবির মোট বার্ষিক ভর্তুকি ব্যয়: প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা
ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫০ লাখ পরিবার বছরে পাঁচ মাস করে ৩০ কেজি চাল পেয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ সংখ্যা বাড়িয়ে ৫৫ লাখ পরিবারে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে আশ্চর্যজনকভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওএমএস কর্মসূচির জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ কমিয়ে প্রায় ৩,৪৮৭ কোটি টাকা রাখা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬৪ শতাংশ কম।
সামগ্রিক চিত্র
টিসিবি,ওএমএস,খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও কৃষিখাতে সরকারের ব্যয় মিলিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে চাপ ইতোমধ্যেই বড়।এর সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডে ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা যুক্ত হলে বাজেট ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কার ও অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাস ছাড়া তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।







































Recent Comments