নিজস্ব প্রতিবেদক।।কারাগার থেকে বন্দী পালানো যেন এখন আর শুধু সিনেমার গল্প নয়—বাংলাদেশের বাস্তবতাও হয়ে উঠছে।ব্রাহ্মণবাড়িয়া,ময়মনসিংহ ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে সম্প্রতি একের পর এক বন্দী পালানো, ভুলে মুক্তি দেওয়া কিংবা নাম ভাঁড়িয়ে জামিন নেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে কারা ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা ও নজরদারি নিয়ে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাম ভাঁড়িয়ে মুক্তি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে হৃদয় মিয়া (২৮) নামের এক হাজতি অন্য আসামির নাম ও জামিনের কাগজ ব্যবহার করে মুক্তি পেয়ে পালিয়ে যান। নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের দিদার হোসেন (২৮) নামে এক হাজতির জামিনের আদেশ ব্যবহার করে হৃদয় নিজেকে দিদার পরিচয়ে মুক্ত করে নেন।
কারা সূত্র জানায়,গত ২৯ জানুয়ারি সকাল ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীরা যথাযথ যাচাই না করায় হৃদয় মূল ফটক দিয়েই কারাগার ত্যাগ করতে সক্ষম হন।
ঘটনার তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় ডেপুটি জেলার আজহারুল ইসলামসহ ছয় কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি হৃদয় পালানোর ঘটনায় পাঁচ হাজতি ও দুই কয়েদির বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় হৃদয় ও দিদার দুজনই আসামি।
ময়মনসিংহে ‘ভুলে’ তিন আসামির মুক্তি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনার দুই দিন আগে ময়মনসিংহ জেলা কারাগার থেকে হত্যা মামলার তিন আসামিকে ‘ভুলবশত’ মুক্তি দেওয়া হয়। তারা হলেন আনিছ মিয়া (৩২), রাশেদুল ইসলাম (২৫) ও জাকিরুল ইসলাম (২৮)।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, হাজিরা পরোয়ানা (প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট) ভুল করে জামিননামা মনে করায় এই তিনজন মুক্তি পান।বিষয়টি জানাজানি হলে ২৯ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থেকে র্যাব তাদের গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কুমিল্লায় ‘আয়নাবাজি’র মতো ঘটনা
কুমিল্লায় আদালতে আত্মসমর্পণ ও কারাগারে পাঠানোর পর আঙুলের ছাপ যাচাই করে ধরা পড়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য।মাদক মামলার এক আসামি হিসেবে যিনি হাজির হয়েছিলেন,তিনি প্রকৃত আসামি নন—নাম ও পরিচয় ভিন্ন।
এর আগেও চাঁদাবাজি মামলায় ইব্রাহীম খান ওরফে ভাগনে তুষারের বদলে তার বন্ধু সাইফ ইসলাম কারাগারে যান—জামিনের সময় বিষয়টি প্রকাশ পায়।
পালানোর দীর্ঘ তালিকা
এর আগে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মইয়ের সাহায্যে পালিয়ে যান ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর ছিদ্দিক। বাগেরহাট জেলা কারাগার থেকে রাজু নামে এক বন্দী অন্যের নামে মুক্তি পেয়ে এখনো পলাতক। ২০২১ সালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানা থেকেও পালান এক ডাকাতি মামলার আসামি।
কেন বাড়ছে এমন ঘটনা?
বন্দী পালানোর ঘটনা কেন বাড়ছে—এ বিষয়ে সাবেক এক কারা মহাপরিদর্শক বলেন,“কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলা, অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতিই এর মূল কারণ। দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন ঘটনা বারবার ঘটছে। বন্দী পালানোর পর গ্রেপ্তার করাই আসল বিষয় নয়, প্রশ্ন হলো—পালাতে পারল কীভাবে?”
ক্রমবর্ধমান এসব ঘটনা দেশের কারা ব্যবস্থার নিরাপত্তা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।








Recent Comments