চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।।বন্দরনগরী চট্টগ্রামে চামড়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারসাজি নস্যাৎ করে দিয়েছে মানবিক সংগঠন গাউছিয়া কমিটি।৫ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের বাসাবাড়ি থেকে এককভাবে এক লাখ পিস চামড়া সংগ্রহ করেছে তারা।বিনামূল্যে চামড়া সংগ্রহের পর লবণ দেয়ার কাজ করছে সংগঠনটি।ফলে সিন্ডিকেটের দাম ওঠানামার প্রচেষ্টা থেমে গেছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার দিন সকাল থেকেই সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও চলেছে পশু কোরবানি।পশু কোরবানির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চামড়াবাহী পিকআপের সারি নগরীর মুরাদপুর এলাকার জামেয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসামুখী।
জামেয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা ঘুরে দেখা যায়,একের পর এক পিকআপ ঢুকছে মাদ্রাসা চত্বরে।আর মানবিক সংগঠন গাউছিয়া কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা সেই চামড়া নামিয়ে লবণ দিয়ে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করছে।তারা যে এক লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল,সেটি পূরণ হয়েছে বলে সময় সংবাদকে জানিয়েছেন গাউছিয়া কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল্লাহ।
মো. আবদুল্লাহ বলেন,গাউছিয়া কমিটি ও আঞ্জুমান কর্মকর্তাদের তৎপরতায় চামড়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া সম্ভব হয়েছে।চট্টগ্রাম শহরের ৯০ শতাংশ চামড়া জামেয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসায় সংগ্রহ করা হচ্ছে।
গাউছিয়া কমিটির প্রচার সম্পাদক মো. আরসাদ কুতুবি বলেন,চামড়া বিক্রির টাকা জামেয়ার মিসকিন ফান্ডে যাবে। এখান থেকে গরিব মেধাবী ছাত্রদের সহযোগিতা করা হবে।
মূলত চামড়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতেই গত বছর থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে চামড়া সংগ্রহ শুরু করে সংগঠনটি। প্রথম বছরেই সফল হয় তারা।যে কারণে বিগত বছরগুলোতে বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হলেও; এখন সেটি আর হচ্ছে না।
এদিকে চামড়া ব্যবসায়ীদের কারসাজিও অনেক কমে এসেছে। নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৫০০টির বেশির বুথ খুলে সংগ্রহ করা হচ্ছে পশুর চামড়া।
গাউছিয়া কমিটির সভাপতি মো. তাসকির আহমেদ বলেন, ৫০০টি বুথের মাধ্যমে চামড়াগুলো সংগ্রহ করে জামিয়ার মাঠে নিয়ে আসা হয়েছে।এতে ৫ হাজারের বেশি কর্মী নিয়োজিত রয়েছে।
চলতি বছর চট্টগ্রামে গাউছিয়া কমিটির বাইরে আরও যে সাড়ে চার লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল,সেটি পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাঁচা চামড়ার আড়তদাররা।








