বরিশাল ব্যুরো।।বরিশালসহ সারাদেশে মিডিয়া পাড়ায় উদ্বেগজনক এক প্রবণতা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।এটি কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়; বরং বহু পর্যবেক্ষকের মতে,একটি পুরোনো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির নতুন রূপে পুনরুত্থানের আশঙ্কাজনক লক্ষণ।
সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে,ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলে প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক নেতার আত্মীয়স্বজন,সুবিধাভোগী দোসর ও ঘনিষ্ঠ মহল রাতারাতি ভুঁইফোড় অনলাইন পোর্টাল খুলে নিজেদের ‘স্বনামধন্য সাংবাদিক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।তাদের মূল লক্ষ্য হিসেবে উঠে আসছে—আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পর্যবেক্ষক কার্ড,প্রশাসনিক প্রবেশাধিকার এবং ক্ষমতার ছায়ায় অবস্থান নিশ্চিত করা।
রাজনৈতিক গিরগিটি ও হাইব্রিড সাংবাদিকতা
এই নতুন তথাকথিত সাংবাদিকদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।অভিযোগ রয়েছে,যারা একসময় প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন,তারাই এখন পরিস্থিতি বুঝে কখনো বিএনপি,কখনো জামায়াতের ঘনিষ্ঠ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন।বরিশাল থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তারা তথাকথিত ‘হাইব্রিড’ রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে এমন অভিযোগও শোনা যাচ্ছে যে,এদের সঙ্গে হত্যা মামলার আসামি কিংবা পরিচিত সন্ত্রাসী চরিত্রের ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে—যা জনমনে আতঙ্ক ও সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
মিডিয়ার নাম ভাঙিয়ে পুরোনো কৌশল
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—এই কথিত সাংবাদিক নেতারা সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অবৈধ প্রভাব খাটানোর পুরোনো ফ্যাসিবাদী কৌশল নতুন মোড়কে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।ক্ষমতার পালাবদল হলেও দালালির চরিত্র বদলায়নি—শুধু লেবেল বদলেছে—এমন ধারণাই শক্ত হচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
বিশ্লেষকদের মতে,এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ‘জুলাই আন্দোলন’, ‘ইনসাফের বাংলাদেশ’ কিংবা ‘নতুন রাষ্ট্রচিন্তা’—এসব শব্দ কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। বাস্তবে দেশ আবারও বন্দি হতে পারে সেই পুরোনো ব্যবস্থার ছায়ায়,যেখানে নীতির বদলে পরিচয়,আর কলমের বদলে চলে লেনদেন।
এখনই প্রতিরোধের ডাক
সচেতন মহলের অভিমত,এখনো সময় আছে।দেশের জনগণ, প্রকৃত সাংবাদিক সমাজ এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক শক্তিকে স্পষ্টভাবে ভণ্ড সাংবাদিকতা,দ্বৈতনীতি ও সুবিধাবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।
আজ যদি এদের চিহ্নিত করে প্রতিরোধ গড়ে তোলা না যায়, তবে কাল তারা নতুন নাম,নতুন ব্যানারে—কিন্তু একই ফ্যাসিবাদী চেতনা নিয়ে রাষ্ট্রের কাঠামোর ভেতর আরও গভীরভাবে প্রোথিত হবে।
ইনসাফের বাংলাদেশ চাইলে,দালাল সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ‘না’ বলতে হবে—এখনই।









































