বরগুনা প্রতিনিধি।।জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।মন্তব্যটিকে নারীর জন্য ‘অত্যন্ত লজ্জাকর ও অবমাননাকর’ আখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে বরগুনা জেলার কর্মজীবী নারী মানসুরা রিনা-র একটি প্রতিবাদী লেখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।তিনি লেখায় স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন—কঠোর শ্রম,দৈনিক ১২ ঘণ্টার কর্মজীবন,সংসার ও পরিবারের দায় কাঁধে নিয়ে বেঁচে থাকার বাস্তবতা,যা তথাকথিত কটূক্তিকারীরা কখনোই বোঝে না।
মানসুরা রিনা তার বক্তব্যে বলেন,কেউ তাকে ‘বেশ্যা’, ‘খানকি’ বা ‘মা*গী’ বললেও তিনি বিচলিত নন,কারণ তিনি জানেন—কাজ না করলে তার ও তার পরিবারের কী পরিণতি হবে।প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ, বাজার,রান্না ও দীর্ঘ পথ হেঁটে যাতায়াত—এটাই একজন কর্মজীবী নারীর বাস্তব জীবন।
তিনি আরও বলেন,রাজনৈতিক দল—আওয়ামী লীগ,বিএনপি,জামায়াত কিংবা অন্য কেউই কর্মজীবী নারীদের বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবে না।আন্দোলনে নামলে তার নাস্তার বিল ও হাজিরা কাটা যাবে—এই বাস্তবতা কেউ বিবেচনায় নেয় না।
তার লেখায় পুরুষদের দায়িত্বহীনতার দিকেও তীব্র প্রশ্ন তোলা হয়।তিনি বলেন,যেসব পুরুষ কাজ না করে স্ত্রীদের দিয়ে সংসার চালান,তাদের জন্যও একটি সামাজিক উপাধি থাকা প্রয়োজন।তিনি সতর্ক করে বলেন—পরিবারের পুরুষরা দায়িত্বহীন হলে সমাজে এমন পরিস্থিতি আরও তৈরি হবে।
এদিকে,বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুলনায় এক জনসভায় বলেন,জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব মন্তব্য করেছেন,তা নারীর জন্য চরম অবমাননাকর।তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কখনোই হ্যাক হয়নি।এসব মন্তব্য জামায়াতের নারী বিদ্বেষী একাত্তরের চরিত্রেরই বহিঃপ্রকাশ।
এর আগে ডা. শফিকুর রহমান বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে দাবি করেন,তিনি ‘সাইবার হামলার শিকার’।তবে এ দাবিকে রাজনৈতিক মহল বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন,এই বিতর্ক নতুন করে নারীর মর্যাদা, কর্মজীবী নারীর সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বশীল বক্তব্যের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।














Recent Comments