ভোটের মাঠে নারী প্রার্থীদের ইতিবাচক সাড়া, মনোনয়নে পিছিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা আগের নির্বাচনের তুলনায় কমেছে।এবার ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ১৭ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী ৭৮ জন,যা মোট প্রার্থীর চার শতাংশেরও কম। এর বাইরে একজন হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে,নারী প্রার্থীদের বড় একটি অংশ উচ্চশিক্ষিত ও কর্মজীবী।৭৮ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ৬০ জনই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী—যা প্রায় ৭৭ শতাংশ। বয়স বিবেচনায় ২৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী নারী প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, মোট ৩০ জন।পেশাগত বিশ্লেষণে দেখা যায়,৬৫ শতাংশ নারী প্রার্থী কর্মজীবী।
আগের নির্বাচনের তুলনায় কম নারী প্রার্থী
অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও শাসনপ্রক্রিয়া বিশেষজ্ঞ মীর নাদিয়া নিভিন জানান, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী ছিলেন ১০১ জন,যা ছিল মোট প্রার্থীর পাঁচ শতাংশের বেশি। সে তুলনায় এবার নারী প্রার্থী কমেছে। ওই নির্বাচনে নারী প্রার্থীর পাশাপাশি হিজড়া ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী ছিলেন দুজন।
তিনি আরও জানান,১৯৭৩ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত নারী প্রার্থীর হার এক শতাংশের নিচে ছিল।২০০১ সালে তা দাঁড়ায় দুই শতাংশে,২০০৮ সালে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০১৪ সালে পাঁচ শতাংশের বেশি এবং ২০১৮ সালে প্রায় চার শতাংশ।
দলগুলোর মনোনয়নে নারীরা উপেক্ষিত
এবার নির্বাচনে দলের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন ৬১ নারী,আর স্বতন্ত্র প্রার্থী ১৭ জন।বিএনপি ১০ জন নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে,যা তাদের মোট প্রার্থীর মাত্র ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। জাতীয় পার্টি দিয়েছে ৬ জন,জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২ জন। তবে জামায়াতসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি।
জাতীয় জুলাই সনদ ২০২৫ অনুযায়ী,প্রতিটি দলকে ন্যূনতম পাঁচ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের আহ্বান জানানো হলেও বড় দলগুলো তা মানেনি।নারী অধিকারকর্মীদের আপত্তি সত্ত্বেও এই ন্যূনতম শর্ত রেখেই সনদ চূড়ান্ত করা হয়।এ বিষয়ে ২৬টি দল সম্মতি দিলেও চারটি দল ভিন্নমত দিয়েছে।
ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন
ভোটের মাঠে নারী প্রার্থীদের নিয়ে ভোটারদের মনোভাব বদলাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রার্থীরা।ঢাকা-২০ আসনের এনসিপি প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ বলেন,ভোট চাইতে গেলে ভোটাররা গর্বের সঙ্গে বলছেন—তাঁদের এলাকায় যোগ্য নারী প্রার্থী রয়েছেন।তবে নির্বাচনী প্রচারে হামলা, অফিস ভাঙচুর ও ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
ঢাকা-১২ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার বলেন, পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে নারী প্রার্থীরা টিকতে পারবেন কি না—এই সংশয় ভোটারদের মধ্যে থাকলেও ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস মিলছে।
উচ্চশিক্ষিত ও কর্মজীবী নারীর আধিক্য
হলফনামা অনুযায়ী,৭৮ জনের মধ্যে ৫১ জন নারী কর্মজীবী। তাঁদের মধ্যে ব্যবসায়ী,আইনজীবী,শিক্ষক,চিকিৎসক, উদ্যোক্তা,কৃষক,উন্নয়নকর্মী ও শিল্পী রয়েছেন।শিক্ষাগত যোগ্যতায় ৩৫ জন স্নাতকোত্তর,২৪ জন স্নাতক,বাকিরা বিভিন্ন স্তরের শিক্ষায় শিক্ষিত।
সবচেয়ে কম বয়সী প্রার্থীদের বয়স ২৫ বছর এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রার্থী ৭৬ বছর বয়সী আখতার সুলতানা।তিনি ময়মনসিংহ-৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নেতৃত্ব বিকাশে দলগুলোর অনীহা
মীর নাদিয়া নিভিন বলেন,নারী প্রার্থীরা যোগ্যতা ও দক্ষতায় এগিয়ে থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলো নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে আগ্রহী নয়।সংরক্ষিত আসন দিয়ে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়।তিনি আরপিও অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দলীয় কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না হলে দলগুলোর নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানান।
হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব
এবার নির্বাচনে একমাত্র হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে রংপুর-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মোছা. আনোয়ারা ইসলাম রানী। তিনি বলেন, পরিবেশ ভালো হলেও পেশিশক্তির কারণে শঙ্কা রয়েছে।








































