নিজস্ব প্রতিবেদক।।জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল হ্যাকের অভিযোগে বঙ্গভবনের এক সহকারী প্রোগ্রামারকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রশাসনিক ও আইনি মহলে তীব্র প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগ উঠেছে,কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এই গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম বঙ্গভবনে সহকারী প্রোগ্রামার হিসেবে কর্মরত। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও তাঁর পরিবারের দাবি,সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে তড়িঘড়ি করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এমনকি একটি রাজনৈতিক পক্ষকে সন্তুষ্ট করতেই ডিবির একটি অংশ ‘অতিউৎসাহী’ ভূমিকা নিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে।
অনুমতি ছাড়াই গ্রেপ্তার
সরকারি চাকরি আইন,২০১৮ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা,২০১৮-এর ৪১ বিধি অনুযায়ী,দায়িত্ব পালনরত কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সরকারের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু ছরওয়ারে আলমের ক্ষেত্রে এই আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়,গ্রেপ্তারের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আইনি জটিলতা এড়াতে দ্রুত হাতিরঝিল থানায় মামলা গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে,গ্রেপ্তারের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর পেছনের তারিখ দেখিয়ে অনুমতি নেওয়ার বা দ্রুত অনুমোদন আদায়ের চেষ্টা চলছে।অথচ ডিবি সাইবার ইউনিটের তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
‘সাজানো অভিযান’-এর অভিযোগ
এ ঘটনায় ডিবি প্রধানসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে,প্রকৃত হ্যাকিংয়ের কোনো দৃশ্যমান ফরেনসিক প্রমাণ না থাকলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই গ্রেপ্তার কার্যকর করা হয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিবির এক কর্মকর্তা জানান,জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তার করায় ডিবির ভেতরেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন
সাইবার অপরাধ তদন্তের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী,হ্যাকিংয়ের ঘটনায় অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয়ের ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার আওতায় আনা প্রয়োজন।কিন্তু এই ঘটনায় শুধু অভিযুক্ত কর্মকর্তার সব ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।অভিযোগকারীর ডিভাইস তদন্তে নেওয়া হয়নি,যা তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
জনমনে ওঠা পাঁচ প্রশ্ন
এই গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও জনমনে পাঁচটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—
১. সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে সরকারের অনুমতি ছাড়া কেন একজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হলো?
২. অভিযুক্ত যদি প্রকৃত হ্যাকার হতেন,তবে তিনি পালিয়ে না গিয়ে নিজ বাসায় কেন অবস্থান করছিলেন?
৩. তদন্তের স্বার্থে অভিযোগকারীর ডিভাইস জব্দ না করে শুধু অভিযুক্তের ডিভাইস কেন জব্দ করা হলো?
৪. গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন কোনো দৃশ্যমান ব্যাখ্যা বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি?
৫. আইসিটি মন্ত্রণালয়,এসবি বা সিআইডির সমন্বয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটির তদন্ত ছাড়াই কেন তড়িঘড়ি মামলা করা হলো—তবে কি প্রশাসন কোনো বিশেষ পক্ষের দিকে ঝুঁকছে?
এ বিষয়ে জানতে ডিবি প্রধানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
![]()








































Recent Comments