নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা।।বিএনপির সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ২০১০ সালের গ্রেপ্তার, পরবর্তী বিচার এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে আবারও রাজনৈতিক ও জনপরিসরে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা দুই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা—হাসান মাহমুদ খন্দকার এবং এ. কে. এম. শহীদুল হক—এর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে।
পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী,হাসান মাহমুদ খন্দকার ৩১ আগস্ট ২০১০ থেকে ৩০ ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে এ. কে. এম. শহীদুল হক ওই সময়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং পরবর্তীতে ৩০ ডিসেম্বর ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আইজিপির দায়িত্ব পালন করেন।
১৬ ডিসেম্বর ২০১০ ভোরে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে রাজধানীর বনানী এলাকার একটি বাসা থেকে র্যাব ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং আপিল প্রক্রিয়া শেষে ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর তার দণ্ড কার্যকর হয়।
এ ঘটনাকে ঘিরে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে,সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা ও বিচার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং তিনি ন্যায়বিচার পাননি।তবে তৎকালীন সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং দাবি করে যে বিচার আইন ও আদালতের প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে।
এ পর্যন্ত হাসান মাহমুদ খন্দকার বা এ. কে. এম. শহীদুল হকের বিরুদ্ধে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর গ্রেপ্তার বা বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো আদালত ফৌজদারি দায় বা অপরাধ প্রমাণ করেনি।ফলে তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হয়,প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে নয়।
আইন ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে,রাষ্ট্রের ক্ষমতা প্রয়োগ,গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া এবং বহুল আলোচিত মামলাগুলোর বিষয়ে প্রশ্ন থাকলে সেগুলোর স্বচ্ছ ও স্বাধীন পর্যালোচনা গণতান্ত্রিক জবাবদিহির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।একই সঙ্গে ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপনের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ,তদন্ত বা আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বক্তব্য উপস্থাপন করা উচিত।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
