নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশে পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং জবাবদিহি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।জুলাই-আগস্টের আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে পুলিশের ভূমিকা,বিভিন্ন সদস্যের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক ও জনপরিসরে গুরুত্ব পেয়েছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল,নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ,রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে পুলিশের প্রধান দায়িত্ব হলো সংবিধান ও আইনের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা।তবে অতীতের বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি পুলিশের একটি অংশের অতিরিক্ত আনুগত্যের অভিযোগ বারবার উঠেছে।
অন্যদিকে,পুলিশ কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছেন যে, তারা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন এবং বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য পুরো বাহিনীকে দায়ী করা ঠিক নয়।
জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলির পর বহু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে তদন্ত,মামলা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।তবে এসব ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে সরকারিভাবে একীভূত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে,রাষ্ট্রের যেকোনো বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে হলে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা,আইনের শাসন এবং কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা অপরিহার্য।তারা বলেন,পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে—এমন প্রত্যাশাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি।
এদিকে,বিভিন্ন মহল পুলিশ সংস্কারের দাবি জানিয়ে বলছে, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা,রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন, স্বাধীন অভিযোগ তদন্ত ব্যবস্থা এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ জোরদার করা হলে জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে,পুলিশের প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা রাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।এ লক্ষ্য অর্জনে আইনানুগ সংস্কার,জবাবদিহি এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
