মাজহারুল ইসলাম।।বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গন দীর্ঘদিন ধরেই গভীর আস্থার সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতার পরিবর্তন,বিচারিক কার্যক্রম,নির্বাচন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বৈধতা—এসব প্রশ্নে দেশের জনগণের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে।এই বিতর্ককে উপেক্ষা করে কোনো সরকারই দীর্ঘমেয়াদে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে না।
যে কোনো সরকার বা রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে বড় শক্তি রাজনৈতিক ক্ষমতা নয়; বরং সংবিধান,আইনের শাসন এবং জনগণের সম্মতি।যখন রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন ওঠে,তখন সেই প্রশ্নের উত্তর রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়,বরং স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া ও জবাবদিহির মাধ্যমে দিতে হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান বিচার, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক আলোচনাকে ঘিরে দেশে-বিদেশে ভিন্নমত রয়েছে।এক পক্ষ এটিকে আইনের স্বাভাবিক প্রয়োগ বলছে,অন্য পক্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করছে।এসব দাবির চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব স্বাধীন বিচারব্যবস্থার।
একইভাবে,নির্বাচন ও সরকার গঠনের বৈধতা নিয়েও যে বিতর্ক রয়েছে,তা কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বক্তব্য বলে উড়িয়ে দেওয়া সমাধান নয়।গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বৈধতা আসে জনগণের অবাধ অংশগ্রহণ,সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি আনুগত্য এবং স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা থেকে।
ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে,রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান প্রতিশোধ,প্রতিহিংসা বা একতরফা সিদ্ধান্তে নয়; বরং আইনের শাসন,সংলাপ,স্বচ্ছতা এবং জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধায় নিহিত।
বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ,যেখানে বিচারব্যবস্থা স্বাধীন থাকবে,নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য,এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তগুলো সংবিধানের আলোকে পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে,কিন্তু রাষ্ট্রের ভিত্তি হওয়া উচিত আইনের শাসন ও সাংবিধানিক শৃঙ্খলা।
গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে জনগণ।তাই রাজনৈতিক বিরোধের স্থায়ী সমাধান আদালতের স্বাধীনতা,সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা এবং জনগণের অবাধ রায়ের মাধ্যমেই আসতে পারে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
