মাজহারুল ইসলাম।।গোপালগঞ্জে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল,রাজনৈতিক মতপার্থক্য যখন সংঘর্ষে রূপ নেয়,তখন সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ এবং রাষ্ট্রের প্রতি জনআস্থা।হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা,ঘটনার কারণ এবং কারা দায়ী—এসব বিষয়ে নানা দাবি-পাল্টা দাবি সামনে এসেছে।তবে যাচাই ছাড়া কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,তা হলো—যদি কোনো অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হয়ে থাকে,কিংবা যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সহিংসতায় জড়িত থাকে,তাহলে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে।আইনের শাসনের মূল নীতি হলো,অপরাধী যে-ই হোক,তার পরিচয় নয়; তার অপরাধই বিচার্য।
বাংলাদেশের সংবিধান শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অধিকার স্বীকার করে।নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো আইন মেনে সভা-সমাবেশ,প্রচার-প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে এমন বক্তব্য বা কর্মসূচি পরিহার করা,যা উত্তেজনা বা সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ায়।রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে,সহিংসতার মাধ্যমে নয়।
রাষ্ট্রের দায়িত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ।আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে মানবাধিকার,আইনি প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় সংযম বজায় রাখা অপরিহার্য।কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত,ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা উচিত।এতে সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জনমনে আস্থা ফিরে আসবে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন,অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ এবং সাংবিধানিক প্রশ্নও আলোচনায় রয়েছে।এ ধরনের বিষয়ে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক।কিন্তু এসব প্রশ্নের সমাধান হওয়া উচিত সংবিধান,আদালতের রায়,বিদ্যমান আইন এবং রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে।গণতন্ত্রে সংকটের স্থায়ী সমাধান আসে প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে,সংঘর্ষের মাধ্যমে নয়।
গোপালগঞ্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দোষারোপের হাতিয়ার না বানিয়ে বরং একটি শিক্ষা হিসেবে নেওয়া প্রয়োজন।সত্য উদ্ঘাটনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত,দায়ীদের জবাবদিহি, আইনের সমান প্রয়োগ এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
রাষ্ট্রের শক্তি অস্ত্রে নয়,ন্যায়বিচারে।আর গণতন্ত্রের শক্তি প্রতিশোধে নয়,সহনশীলতা ও আইনের শাসনে।গোপালগঞ্জের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্য উদ্ঘাটিত হোক,দোষীরা বিচারের মুখোমুখি হোক এবং ভবিষ্যতে যেন আর কোনো রাজনৈতিক বিরোধ প্রাণহানির কারণ না হয়—এটাই হোক সবার প্রত্যাশা।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
