নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম।।বিগত ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক কারণে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছে পরিবারটি।আশা ছিল ক্ষমতার পরিবর্তনের পর হয়তো ভাগ্যের চাকা ঘুরবে।কিন্তু মাঠের পরীক্ষায় শতভাগ সফল এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও শেষ রক্ষা হলো না।টাকা আর প্রভাবশালীদের সুপারিশের অভাবে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) থেকে বাদ পড়তে হলো এক তৃণমূল বিএনপি নেতার সন্তানকে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের ‘টেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি)’ পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে বাদ পড়া আশিকুর রহমানের পরিবার এমন অভিযোগ তুলেছে। আশিকুর রহমানের পিতা,যিনি নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত একজন তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের এই চরম হতাশা ও ক্ষোভের কথা প্রকাশ করেছেন।
সংযুক্ত প্রবেশপত্র (1782749467832.jpg) থেকে দেখা যায়,আবেদনকারী আশিকুর রহমান বাংলাদেশ পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষায় (PET) অংশ নিয়েছিলেন।কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে অনুষ্ঠিত শারীরিক যোগ্যতার প্রতিটি ধাপে (দৌড়, পুশ-আপ,লং জাম্প,হাই জাম্প,রোপ ক্লাইম্বিং ইত্যাদি) তিনি সফলভাবে উত্তীর্ণ হন এবং অফিশিয়াল নথিতে তাকে ‘কৃতকার্য’ ও ‘যোগ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি,শারীরিক ও লিখিত পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও মৌখিক পরীক্ষায় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।এর মূল কারণ হিসেবে তারা আর্থিক লেনদেন করতে না পারা এবং কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশ না থাকাকে দায়ী করছেন।
হতাশাপূর্ণ কণ্ঠে আশিকুর রহমানের পিতা বলেন,
> “বিগত ১৭ বছর আমাদের পরিবারের কেউ সরকারি চাকরি পায়নি শুধু আমরা বিএনপি করি বলে।এখন দল ক্ষমতায় আসার পরও টাকার অভাবে আমার ছেলেকে চাকরি থেকে বঞ্চিত হতে হলো।মাঠের ১০টি পরীক্ষায় পাস করার পরও ভাইভাতে বাদ দেওয়া হলো কারণ আমার কাছে দেওয়ার মতো টাকা নেই,কোনো বড় সুপারিশও নেই।জেলা পর্যায়ের নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি,তারা আশ্বস্ত করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সুপারিশ করেননি।হয়তো তাদের আর্থিক বা অন্য কোনো চাহিদা আমরা পূরণ করতে পারিনি।”
তিনি আরও আক্ষেপ করে বলেন, “যোগ্যতা থাকার পরও সন্তানের ভাগ্যে চাকরি জোটে না।এটাই হয়তো আমাদের মতো তৃণমূল নেতাদের আসল প্রাপ্য।কারণ আমাদের টাকাও নেই, আর সুপারিশ করার মতো কোনো বড় মানুষও নেই।”
ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন অনিয়ম ও তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন না হওয়া এবং মেধা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ ঘরের সন্তানদের এভাবে বাদ পড়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় সচেতন মহল।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
