বিশেষ আন্তর্জাতিক ডেস্ক, লন্ডন:বৈশ্বিক রাজনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু যুক্তরাজ্যের (যুক্তরাজ্য) ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের ক্ষমতার মসনদ ঘিরে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ তীব্র চাপ ও একের পর এক রাজনৈতিক ধাক্কার মুখে গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে নাটকীয়ভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।তাঁর এই বিদায়ের ঘোষণার পর দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন—তা নিয়ে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গভীর কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
কিয়ার স্টারমারের নাটকীয় বিদায় ও পটভূমি
গত ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলেও মাত্র দুই বছরের মাথায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন কিয়ার স্টারমার।সরকারের একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত, গত মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় বিপর্যয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কিত রাষ্ট্রদূত নিয়োগের কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরেই তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়।
গত সপ্তাহে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম (Andy Burnham) মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে বড় জয় পেয়ে পুনরায় সংসদে ফিরে আসার পরপরই স্টারমারের ওপর চাপ চূড়ান্ত রূপ নেয়।অবশেষে ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে আবেগঘন এক বক্তৃতায় স্টারমার জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দলের নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে শীর্ষে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
লন্ডনের নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে,লেবার পার্টির পরবর্তী প্রধান এবং যুক্তরাজ্যের ৭ম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে শক্তিশালী ও একক ফ্রন্টরানার হিসেবে আলোচনায় আছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।দলের একটি বিশাল অংশ তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।আগামী ৯ জুলাই থেকে নতুন নেতা নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে যদি তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন, তবে জুলাইয়ের মাঝামাঝিতেই তিনি রাজপ্রাসাদ থেকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পেতে পারেন।
টিউলিপ সিদ্দিকের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও বাস্তবতা
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত ও প্রভাবশালী বাঙালি মুখ,সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি এবং শেখ রেহানার কন্যা টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিককে নিয়ে আন্তর্জাতিক ও বাঙালি মহলে নানামুখী আলোচনা চলছে।
১. নির্বাচনী আসনে টানা সফলতা:
টিউলিপ সিদ্দিক ২০১৫ সাল থেকে লন্ডনের মর্যাদাপূর্ণ ‘হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন’ (বর্তমান নাম হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট) আসন থেকে টানা লেবার পার্টির সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।একজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি কোটি বাঙালির মাঝে এক অভূতপূর্ব গৌরব ও প্রেরণার উৎস।
২. মন্ত্রীপদ ও বর্তমান ভূমিকা:
তিনি ইতিপূর্বে লেবার পার্টি সরকারের ছায়া অর্থ প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে কিয়ার স্টারমার সরকারের ট্রেজারির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইকোনমিক সেক্রেটারি ও সিটি মিনিস্টার’ হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন।তবে,গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে তিনি তাঁর এই মন্ত্রীপদ থেকে ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেন।বর্তমানে তিনি কোনো মন্ত্রীপদে নেই এবং একজন সাধারণ সংসদ সদস্য (MP) হিসেবে তাঁর নির্বাচনী এলাকার দায়িত্ব পালন করছেন।
৩. প্রধানমন্ত্রী পদের রেস নিয়ে বিভ্রান্তি:
যুক্তরাজ্যের মূল ধারার রাজনীতি ও লেবার পার্টির বর্তমান রূপরেখা অনুযায়ী,টিউলিপ সিদ্দিক এই মুহূর্তে যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদের রেসে বা দলীয় নীতিনির্ধারকদের শীর্ষ তালিকায় নেই।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহলে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বা ওয়েস স্ট্রিটিংদের মতো শীর্ষ নেতাদের নামই জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে।
বেঙ্গলি জার্নালের পর্যবেক্ষণ
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে যে ঐতিহাসিক রূপান্তর ঘটছে, তা আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের এই মেগা রেস,লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ ভোটাভুটি এবং হাউস অব কমন্সের প্রতিমুহূর্তের খবরাখবর বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ আন্তর্জাতিক ডেস্ক ও লন্ডন ব্যুরো অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
