নিজস্ব প্রতিবেদক।।মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে জুন-২০২৬ সেশন ও অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফি সংক্রান্ত একটি নোটিশ প্রকাশের পর অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বেতন ও পরীক্ষার ফি পরিশোধ না করলে প্রবেশপত্র দেওয়া হবে না—এমন নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী ১ম থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা ও ইংলিশ ভার্সনের শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক ও পরীক্ষার ফি ৪০০ টাকা থেকে ১২৫০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।পাশাপাশি বকেয়া থাকলে তা পরিশোধ ছাড়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ,একদিকে নোটিশে কঠোর সময়সীমা আরোপ করা হয়েছে,অন্যদিকে ফি কাঠামো তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।অনেকেই বিষয়টিকে “একতরফা সিদ্ধান্ত” হিসেবে আখ্যায়িত করে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে শিক্ষা খাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ফি নির্ধারণ ও আদায় বিষয়ে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার প্রসঙ্গ সামনে এনে অভিভাবক মহলে আইনি পর্যালোচনার কথাও উঠছে।তাঁদের দাবি, নির্ধারিত নীতিমালার বাইরে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ফি আদায় করা হলে তা স্বচ্ছতা ও নিয়মের পরিপন্থী হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অভিভাবকরা বলছেন,বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে তারা শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ ও সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচির দিকে যেতে পারেন।
শিক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন,বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফি কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিনের অস্পষ্টতা ও পর্যাপ্ত তদারকির অভাবের কারণেই এ ধরনের বিতর্ক বারবার সামনে আসছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলে এখন প্রশ্ন উঠেছে—শিক্ষা কি ক্রমেই ব্যয়বহুল চাপের কেন্দ্র হয়ে উঠছে,নাকি নিয়ন্ত্রণহীন ফি কাঠামোর কারণে আস্থা সংকটে পড়ছে পুরো বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা?
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
