নিজস্ব প্রতিবেদক।।আওয়ামী লীগ-সমর্থক বিভিন্ন মহল ও নেতাকর্মীরা অভিযোগ করছেন, দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত বা স্থগিত থাকার প্রেক্ষাপটে শান্তিপূর্ণ মিছিল,সমাবেশ কিংবা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হচ্ছে,যা তারা সংবিধানসম্মত রাজনৈতিক অধিকারের পরিপন্থী বলে দাবি করছেন।
তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গও উঠে আসে।তারা উল্লেখ করেন, ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা,২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা,উদীচী ও রমনা বটমূলে বোমা হামলাসহ বিভিন্ন জঙ্গি কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। এছাড়া ২০১৫ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় পেট্রোলবোমা হামলায় বহু হতাহতের ঘটনাও ব্যাপক আলোচিত হয়।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় দেশজুড়ে থানা,সরকারি স্থাপনা,বিটিভি ভবন,মেট্রোরেলের স্থাপনা,রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িঘর এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা,ভাঙচুর,অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন তদন্ত,গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং সরকারি নথিতে উল্লেখ রয়েছে।একই সময়ে পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এ প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট মহল দাবি করছে,অতীত ও বর্তমানের সহিংস ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে একীভূত করে দেখা উচিত নয়।
তবে বিএনপি ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা বরাবরই অনেক অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন এবং বিভিন্ন ঘটনায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার অভিযোগ করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,অতীত ও বর্তমানের সব ধরনের সহিংসতা,অগ্নিসংযোগ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের সমান প্রয়োগই দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.