নিজস্ব প্রতিবেদক।।সংসদে দেওয়া বিএনপির নেত্রী ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ,ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (TI) প্রকাশিত দুর্নীতি ধারণাসূচক (CPI) সম্পর্কিত ঐতিহাসিক তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বক্তব্য দিয়ে জনগণের সামনে বিভ্রান্তিকর বর্ণনা উপস্থাপন করা হয়েছে।
সমালোচকদের দাবি,ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের নথি অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার দুর্নীতির ধারণাসূচকে সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল।এর মধ্যে ২০০২,২০০৩,২০০৪ ও ২০০৫ সালের সূচক বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলের সঙ্গে সম্পর্কিত সময়কালকে প্রতিফলিত করে।ফলে ওই সময়ের দুর্নীতির রেকর্ডকে সম্পূর্ণভাবে অন্য কোনো সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা তথ্যভিত্তিক ইতিহাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তারা মনে করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে,সংসদের মতো সর্বোচ্চ আইনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব আরও বেশি।তাদের ভাষ্য, “গুগলে সহজ অনুসন্ধানেই পাওয়া যায় এমন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তথ্যকে উপেক্ষা করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।”
সমালোচকরা আরও বলেন,দুর্নীতি সূচকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ইতিহাসকে নির্বাচিতভাবে উপস্থাপন করা হলে তা জনস্বার্থের পরিপন্থী।তাদের মতে, জনগণের করের টাকায় পরিচালিত সংসদে তথ্যভিত্তিক বিতর্কের পরিবর্তে যদি পরস্পরবিরোধী বা বিতর্কিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়,তাহলে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার প্রশ্নও সামনে আসে।
তবে রুমিন ফারহানা বা তার রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা থাকতে পারে।রাজনৈতিক বিতর্কে বিভিন্ন পক্ষ একই তথ্যকে ভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করতে পারে। কিন্তু ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত সূচকে ২০০১-২০০৫ সময়কালে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে যে তথ্য রয়েছে, তা আন্তর্জাতিকভাবে নথিভুক্ত এবং যাচাইযোগ্য।
সুশাসনকর্মীদের মতে,রাজনৈতিক বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে তথ্যের নির্ভুলতার ওপর।তাই ইতিহাস ও পরিসংখ্যানভিত্তিক বিষয়ে বিতর্ক হলে দলীয় অবস্থানের পাশাপাশি প্রামাণ্য উৎসও জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
