নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে এক ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ঘরে ঢুকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী কয়েকজনের বিরুদ্ধে।হামলায় গুরুতর আহত ওই নারী বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ওসিসিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবারের দাবি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,গত ২ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫০১ নম্বর দাগ এলাকায় শাহীন গাজীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।অভিযুক্ত হিসেবে প্রতিবেশী মোসলেম জোমাদ্দার ও তার তিন ছেলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ,অভিযুক্তরা ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে জোরপূর্বক প্রবেশ করে শাহীন গাজীর স্ত্রী রুবিনা (২০)-কে বেধড়ক মারধর করে।একপর্যায়ে তার তলপেটে লাথি ও আঘাত করা হয়।হামলার সময় ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।
ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় রুবিনাকে প্রথমে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগী রুবিনা বলেন,“আমি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমাকে মারধরের সময় তলপেটে লাথি মারা হয়েছে। আমার অনাগত সন্তানের ক্ষতি হয়ে গেছে বলে আমি আশঙ্কা করছি।এখনো রক্তক্ষরণ হচ্ছে।”
পরিবারের দাবি,ঘটনার পর চিকিৎসার সনদসহ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত মামলা রুজু হয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি।
ভুক্তভোগীর স্বামী মো. শাহীন গাজী বলেন,“আমার স্ত্রীর অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন।আমরা থানায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু মামলা নেয়নি।বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
অভিযুক্ত মোসলেম জোমাদ্দারের ছোট ভাই আলম জোমাদ্দার সাংবাদিকদের বলেন,“বিষয়টি নিয়ে সালিশ-মীমাংসার চেষ্টা চলছে।”
অন্যদিকে বাদীপক্ষের হাসান গাজী বলেন,“পুলিশ উভয় পক্ষকে মীমাংসা করে থানায় যেতে বলেছে।তবে কোনো সালিশে আমাদের সম্মতি নেই এবং কোনো সমঝোতাও হয়নি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করেছে।
সম্পাদকীয় মন্তব্য
একজন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ঘরে ঢুকে মারধর,তলপেটে আঘাত এবং অনাগত সন্তানের জীবন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ কেবল একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়,এটি মানবতা ও সভ্যতার বিরুদ্ধে নৃশংসতার শামিল।অভিযোগ সত্য হলে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ হওয়া প্রয়োজন।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো,ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করছে যে গুরুতর আহত নারী হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করলেও এখনো মামলা রুজু হয়নি। কোনো ফৌজদারি অপরাধ,বিশেষ করে নারী ও গর্ভস্থ শিশুর জীবননাশের অভিযোগকে সালিশ-মীমাংসার আড়ালে চাপা দেওয়ার সুযোগ নেই।এমন ঘটনায় আইন অনুযায়ী দ্রুত তদন্ত, মামলা গ্রহণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই হবে আইনগতভাবে নির্ধারক।পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
