ডেস্ক রিপোর্ট।।মানবদেহে প্রতিনিয়ত অসংখ্য রাসায়নিক পদার্থ কাজ করছে,যেগুলোর অনেকগুলোই আমাদের আবেগ, আচরণ,ঘুম,শক্তি ও মানসিক অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে,শরীর ও মস্তিষ্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনায় হরমোন ও নিউরোট্রান্সমিটারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জেনে নেওয়া যাক,বহুল আলোচিত কয়েকটি হরমোন ও রাসায়নিক উপাদানের কাজ—
ডোপামিন: ভালো লাগা ও প্রেরণার অনুভূতি
ডোপামিনকে অনেক সময় “ফিল গুড” কেমিক্যাল বলা হয়। কোনো অর্জন,প্রশংসা,প্রিয় কাজ বা আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতার সময় মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসৃত হয়।এটি মানুষের প্রেরণা, আগ্রহ ও আনন্দবোধ বাড়াতে সহায়তা করে।
অক্সিটোসিন: ভালোবাসা ও সম্পর্কের হরমোন
অক্সিটোসিনকে বলা হয় “লাভ হরমোন” বা “বন্ডিং হরমোন”। মা ও সন্তানের সম্পর্ক,ভালোবাসা,বিশ্বাস,আলিঙ্গন কিংবা আবেগঘন সম্পর্ক তৈরিতে এই হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সেরোটোনিন: মুড নিয়ন্ত্রণের কারিগর
মানসিক স্থিতি,আত্মবিশ্বাস ও সুখানুভূতির সঙ্গে সেরোটোনিন জড়িত।এই রাসায়নিকের ভারসাম্য নষ্ট হলে হতাশা,উদ্বেগ ও মুডের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।
অ্যাড্রেনালিন: শরীরের জরুরি শক্তির উৎস
ভয়, উত্তেজনা বা বিপদের মুহূর্তে শরীরে অ্যাড্রেনালিন দ্রুত বেড়ে যায়।এতে হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পায়,শরীরে বাড়তি শক্তি আসে এবং মানুষ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে সক্ষম হয়।
কর্টিসল: মানসিক চাপের হরমোন
কর্টিসলকে “স্ট্রেস হরমোন” বলা হয়।অতিরিক্ত মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগের সময় শরীরে কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন উচ্চমাত্রার কর্টিসল শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এন্ডরফিন: প্রাকৃতিক ব্যথানাশক
ব্যায়াম,হাসি,আনন্দ বা ইতিবাচক অভিজ্ঞতার সময় শরীরে এন্ডরফিন নিঃসৃত হয়।এটি ব্যথা কমাতে এবং ভালো অনুভূতি তৈরি করতে সাহায্য করে।
মেলাটোনিন: ঘুমের নিয়ন্ত্রক
রাত হলে শরীরে মেলাটোনিনের উৎপাদন বাড়ে,যা ঘুমের সংকেত দেয়।অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার,রাত জাগা বা অনিয়মিত জীবনযাপন এই হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক প্রশান্তি ও সামাজিক সম্পর্কের ভারসাম্য এসব হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
