নিজস্ব প্রতিবেদক।।দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হওয়া শিশু তামান্না হত্যা মামলায় প্রধান আসামির জামিন বাতিল করে পুনরায় কারাগারে পাঠিয়েছেন বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। আগামী সপ্তাহে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে,২০২৪ সালের ৩ মে সংঘটিত এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবার প্রথম থেকেই এটিকে পরিকল্পিত ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছিল। অভিযোগ অনুযায়ী,আত্মীয় পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়।পরে ঘটনা প্রকাশ হয়ে যেতে পারে— এই আশঙ্কায় তাকে হত্যা করে ভবনের ছাদে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হয়।
পরবর্তীতে নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলার তদন্তে নামে র্যাব-৮।তদন্ত শেষে অভিযুক্ত পিতা ও পুত্রকে গ্রেফতার করা হয়।কয়েক মাস কারাগারে থাকার পর তারা জামিনে মুক্তি পান।তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার বিচার কার্যক্রম ধীরগতিতে চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা ও শিশুটির পরিবার।
মামলার নথিতে থাকা মেডিকেল রিপোর্টে শিশুটির ওপর নির্মম নির্যাতনের আলামতের কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ,ঘটনার পর বিভিন্নভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল।একই সঙ্গে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও আসামিদের জামিনে মুক্তি পরিবারটিকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ফেলেছিল বলেও দাবি করেন তারা।
এদিকে মামলাটির পর্যাপ্ত গণমাধ্যম কাভারেজ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহল। তাদের ভাষ্য,রাজধানীকেন্দ্রিক আলোচিত ঘটনাগুলোর মতো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু শিশু নির্যাতন ও হত্যা মামলা জনদৃষ্টির বাইরে থেকে যায়।ফলে বিচারপ্রক্রিয়াও অনেক ক্ষেত্রে গতি হারায়।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন,শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ নজরদারি ও অগ্রাধিকারভিত্তিক বিচার প্রয়োজন।একই সঙ্গে সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
তামান্না হত্যা মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।নিহত শিশুটির পরিবার অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.