মাজহারুল ইসলাম।।একটি শিশু।যার পৃথিবী হওয়ার কথা ছিল বই,খেলনা,স্কুলব্যাগ আর মায়ের আঁচল।সেই শিশুর শরীর ছিঁড়ে ফেলে,জীবন কেড়ে নিয়ে,তাকে মাটিচাপা দেওয়া হচ্ছে— আর আমরা সভ্যতার গল্প বলছি!রাষ্ট্র উন্নয়নের গল্প শোনাচ্ছে,সমাজ ধর্ম-নীতি-নৈতিকতার বুলি আওড়াচ্ছে,অথচ শিশু ধর্ষণ যেন এই দেশের নিত্যদিনের সংবাদে পরিণত হয়েছে।
রামিসার ধর্ষক ও হত্যাকারীর কী শাস্তি হওয়া উচিত— এই প্রশ্নে মানুষের ভেতরে আজ ক্ষোভ,ঘৃণা আর প্রতিশোধের আগুন।কারণ মানুষ দেখছে,শিশু ধর্ষকরা অনেক সময় বিচার পেতে পেতে বছরের পর বছর পার করে দেয়।আদালতের তারিখের পর তারিখ,আপিলের পর আপিল,আইনের জটিলতা আর ধীরগতি— সব মিলিয়ে অপরাধীরা যেন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
এখানেই জনমনে প্রশ্ন উঠছে— কেবল মৃত্যুদণ্ড কি যথেষ্ট? যদি সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতেও দশ বছর লেগে যায়, তাহলে সেই শাস্তি কি সমাজে ভয় তৈরি করতে পারে? পারে না।বরং বিচার বিলম্বিত হওয়া মানে অনেক ক্ষেত্রে বিচারকে অর্থহীন করে ফেলা।
এই সমাজে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে,যেখানে মানুষ প্রকাশ্যে কঠোর শাস্তির দাবি তুলছে। কেউ বলছে প্রকাশ্যে চাবুকের ব্যবস্থা হোক,কেউ বলছে জনসম্মুখে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক।কারণ মানুষ এখন শুধু বিচার চায় না, মানুষ চায় এমন দৃষ্টান্ত,যাতে ভবিষ্যতের নরপশুরা অপরাধ করার আগেই আতঙ্কে কেঁপে ওঠে।
তবে রাষ্ট্র পরিচালনা প্রতিশোধের আবেগ দিয়ে চলে না; চলে আইন ও ন্যায়বিচারের কাঠামোয়।তাই সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।দ্রুত, দৃশ্যমান এবং কার্যকর বিচার। এমন বিচার, যা ভুক্তভোগী পরিবারকে অন্তত এই বিশ্বাস দেবে যে রাষ্ট্র তাদের পাশে আছে।
আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর আইন মন্ত্রণালয় দ্রুত বিচারের উদ্যোগ নিয়েছিল।বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন হয়েছিল, মাত্র ৬ কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন হয়েছিল।এটি প্রমাণ করে— রাষ্ট্র চাইলে পারে।কিন্তু তারপর? মামলাটি বছরের পর বছর উচ্চ আদালতে ঝুলে আছে।অর্থাৎ সমস্যা শুধু বিচারিক আদালতে নয়; সবচেয়ে বড় সংকট আপিল প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা।
এই জায়গায় দেশের প্রধান বিচারপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার জন্য হাইকোর্টে আলাদা বেঞ্চ গঠন করা এখন সময়ের দাবি।নিয়মিত ও অগ্রাধিকারভিত্তিক শুনানি নিশ্চিত করতে হবে।প্রয়োজনে সাপ্তাহিক বিশেষ কার্যদিবস নির্ধারণ করতে হবে।কারণ একটি শিশুর জীবন কোনো সাধারণ মামলা নয়; এটি পুরো জাতির বিবেকের বিচার।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো— সমাজ ধীরে ধীরে এসব ঘটনায় অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে।কয়েকদিন প্রতিবাদ,সামাজিক মাধ্যমে ঝড়, তারপর নীরবতা। এই নীরবতাই অপরাধীদের সাহস জোগায়। রাজনৈতিক দলগুলোও অনেক সময় ঘটনাগুলোকে দলীয় চশমায় দেখে। কেউ সরকারকে দায়ী করে, কেউ বিরোধী পক্ষকে। অথচ ধর্ষকের কোনো দল নেই, কোনো মতাদর্শ নেই— সে কেবল একজন পিশাচ।
রাষ্ট্র যদি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে উন্নয়ন, মেগা প্রকল্প, অর্থনীতি— সবকিছুই অর্থহীন হয়ে যায়। কারণ যে দেশে শিশুরা নিরাপদ নয়, সেই দেশ কখনো সভ্য হতে পারে না।
রামিসারা আর কতদিন কবরের নিচে অপেক্ষা করবে? আর কত মায়ের বুক খালি হলে রাষ্ট্র জেগে উঠবে? এখন সময় এসেছে কথার নয়, কার্যকর পদক্ষেপের। দ্রুত বিচার, দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতেই হবে।
নইলে ইতিহাস একদিন লিখবে— এই রাষ্ট্র শিশুদের রক্ষা করতে পারেনি।রামিসারা আর কতদিন ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করবে?
একটি শিশু। যার পৃথিবী হওয়ার কথা ছিল বই, খেলনা, স্কুলব্যাগ আর মায়ের আঁচল। সেই শিশুর শরীর ছিঁড়ে ফেলে, জীবন কেড়ে নিয়ে, তাকে মাটিচাপা দেওয়া হচ্ছে— আর আমরা সভ্যতার গল্প বলছি! রাষ্ট্র উন্নয়নের গল্প শোনাচ্ছে, সমাজ ধর্ম-নীতি-নৈতিকতার বুলি আওড়াচ্ছে, অথচ শিশু ধর্ষণ যেন এই দেশের নিত্যদিনের সংবাদে পরিণত হয়েছে।
রামিসার ধর্ষক ও হত্যাকারীর কী শাস্তি হওয়া উচিত— এই প্রশ্নে মানুষের ভেতরে আজ ক্ষোভ, ঘৃণা আর প্রতিশোধের আগুন। কারণ মানুষ দেখছে, শিশু ধর্ষকরা অনেক সময় বিচার পেতে পেতে বছরের পর বছর পার করে দেয়। আদালতের তারিখের পর তারিখ, আপিলের পর আপিল, আইনের জটিলতা আর ধীরগতি— সব মিলিয়ে অপরাধীরা যেন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
এখানেই জনমনে প্রশ্ন উঠছে— কেবল মৃত্যুদণ্ড কি যথেষ্ট? যদি সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতেও দশ বছর লেগে যায়, তাহলে সেই শাস্তি কি সমাজে ভয় তৈরি করতে পারে? পারে না। বরং বিচার বিলম্বিত হওয়া মানে অনেক ক্ষেত্রে বিচারকে অর্থহীন করে ফেলা।
এই সমাজে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে মানুষ প্রকাশ্যে কঠোর শাস্তির দাবি তুলছে। কেউ বলছে প্রকাশ্যে চাবুকের ব্যবস্থা হোক, কেউ বলছে জনসম্মুখে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক। কারণ মানুষ এখন শুধু বিচার চায় না, মানুষ চায় এমন দৃষ্টান্ত, যাতে ভবিষ্যতের নরপশুরা অপরাধ করার আগেই আতঙ্কে কেঁপে ওঠে।
তবে রাষ্ট্র পরিচালনা প্রতিশোধের আবেগ দিয়ে চলে না; চলে আইন ও ন্যায়বিচারের কাঠামোয়। তাই সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা। দ্রুত, দৃশ্যমান এবং কার্যকর বিচার। এমন বিচার, যা ভুক্তভোগী পরিবারকে অন্তত এই বিশ্বাস দেবে যে রাষ্ট্র তাদের পাশে আছে।
আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর আইন মন্ত্রণালয় দ্রুত বিচারের উদ্যোগ নিয়েছিল। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন হয়েছিল, মাত্র ৬ কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন হয়েছিল। এটি প্রমাণ করে— রাষ্ট্র চাইলে পারে। কিন্তু তারপর? মামলাটি বছরের পর বছর উচ্চ আদালতে ঝুলে আছে। অর্থাৎ সমস্যা শুধু বিচারিক আদালতে নয়; সবচেয়ে বড় সংকট আপিল প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা।
এই জায়গায় দেশের প্রধান বিচারপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার জন্য হাইকোর্টে আলাদা বেঞ্চ গঠন করা এখন সময়ের দাবি। নিয়মিত ও অগ্রাধিকারভিত্তিক শুনানি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে সাপ্তাহিক বিশেষ কার্যদিবস নির্ধারণ করতে হবে। কারণ একটি শিশুর জীবন কোনো সাধারণ মামলা নয়; এটি পুরো জাতির বিবেকের বিচার।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো— সমাজ ধীরে ধীরে এসব ঘটনায় অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। কয়েকদিন প্রতিবাদ, সামাজিক মাধ্যমে ঝড়, তারপর নীরবতা। এই নীরবতাই অপরাধীদের সাহস জোগায়। রাজনৈতিক দলগুলোও অনেক সময় ঘটনাগুলোকে দলীয় চশমায় দেখে। কেউ সরকারকে দায়ী করে, কেউ বিরোধী পক্ষকে। অথচ ধর্ষকের কোনো দল নেই, কোনো মতাদর্শ নেই— সে কেবল একজন পিশাচ।
রাষ্ট্র যদি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে উন্নয়ন, মেগা প্রকল্প, অর্থনীতি— সবকিছুই অর্থহীন হয়ে যায়। কারণ যে দেশে শিশুরা নিরাপদ নয়, সেই দেশ কখনো সভ্য হতে পারে না।
রামিসারা আর কতদিন কবরের নিচে অপেক্ষা করবে? আর কত মায়ের বুক খালি হলে রাষ্ট্র জেগে উঠবে? এখন সময় এসেছে কথার নয়, কার্যকর পদক্ষেপের। দ্রুত বিচার, দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতেই হবে।
নইলে ইতিহাস একদিন লিখবে— এই রাষ্ট্র শিশুদের রক্ষা করতে পারেনি।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
