মেহেন্দিগঞ্জ(বরিশাল)প্রতিনিধি।।বরিশাল-ভোলা মহাসড়কের পাশে ইলিশা কোড়ালিয়া এলাকার উত্তর-দক্ষিণ সংযোগ সড়ক জনগণের উদ্যোগে মেরামতের কাজ চলাকালে হামলা ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কথিত বিএনপি নেতা জয়নাল খান, তার ছেলে জুম্মান খান,জামাতা শাহীন বয়াতি ওরফে শাহীন মেম্বার, মকবুল মোল্লাসহ ৬/৭ জনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে জানা গেছে,স্থানীয় জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তা সংস্কারের কাজ করছিলেন শ্রমিক ইয়ামিন।এসময় অভিযুক্তরা সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করতে বলেন এবং একপর্যায়ে ইয়ামিনকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করেন বলে অভিযোগ ওঠে।আহত ইয়ামিনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কবীর গাজী সাংবাদিকদের জানান, “রাস্তা জনগণের চলাচলের জন্য মেরামত করা হচ্ছিল।এতে বাধা দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।আমাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহীন মেম্বারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করে কেটে দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়,অভিযুক্ত জুম্মান খান মুদি দোকানের আড়ালে মাদক ও জাল টাকার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি,জয়নাল খান ও শাহীন মেম্বারের পরিবার দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সরকারি খাসজমি দখল করে রেখেছে।রাস্তা মেরামতের জন্য যেখান থেকে মাটি কাটা হয়েছে,সেটিও সরকারি খাস খতিয়ানের জমি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্তরা ওই জমির ডিসিআর (সরকারি জমি ইজারা) নেওয়ার দাবি করলেও ভূমি অফিস সূত্র জানিয়েছে,২০০৬ সালের পর আলিমাবাদ ইউনিয়নে তফশীলভুক্ত কোনো জমির ডিসিআর দেওয়া হয়নি।ফলে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “সরকারি খাসজমি দখল বা জনগণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আইনি বিশ্লেষণ
আইনজীবীদের মতে,অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা হতে পারে।
মারধর ও জখম: দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৫ বা ৩২৬ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
হত্যার হুমকি: দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় ফৌজদারি ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা যেতে পারে।
সরকারি কাজে বাধা ও জনস্বার্থে প্রতিবন্ধকতা: পরিস্থিতি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার ও ফৌজদারি আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
সরকারি খাসজমি দখল: রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করলে উচ্ছেদসহ ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।
মাদক ও জাল টাকার অভিযোগ: প্রমাণ মিললে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে পৃথক মামলা হতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি জমি ও জনগণের চলাচলের রাস্তা নিয়ে সংঘাত বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ জরুরি।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
