নিজস্ব প্রতিবেদক।।জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে দায়ের হওয়া অসংখ্য মামলাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে,আন্দোলনের নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি,ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অর্থ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে একের পর এক “গায়েবি” ও “মিথ্যা মামলা” দায়ের করা হয়েছে।সমালোচকদের দাবি,এসব মামলার বড় অংশেই বাস্তব কোনো ঘটনার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন,সাংবিধানিক সরকারকে অস্থিতিশীল করতে স্বাধীনতাবিরোধী ও উগ্রপন্থী চক্র পরিস্থিতিকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করেছে।তাদের ভাষ্য অনুযায়ী,একাত্তরের পরাজিত শক্তির উত্তরসূরিরা দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোকে দুর্বল করার সুযোগ খুঁজছিল।জুলাই আন্দোলনের অস্থিরতাকে তারা সেই সুযোগ হিসেবে নিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে,সারাদেশে প্রায় ৫ শতাধিক মামলায় ৫ লাখের বেশি মানুষকে আসামি করা হয়েছে।এসব মামলার অনেকগুলোতেই এমন ব্যক্তিদের নাম রয়েছে,যারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না,এমনকি কেউ কেউ বিদেশে বা হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন বলেও দাবি উঠেছে।এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বাড়ছে।
সমালোচকরা বলছেন, “বিচারের নামে যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালানো হয়,তাহলে তা ন্যায়বিচার নয়; বরং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করে তোলে।” তাদের মতে, প্রকৃত অপরাধী শনাক্তের পরিবর্তে গণহারে আসামি বানানোর সংস্কৃতি বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করছে।
এদিকে মানবাধিকারকর্মীদের একাংশ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তাদের মতে,কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন বা সহিংসতার ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা অবশ্যই প্রয়োজন,তবে তা হতে হবে তথ্য-প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে। যাচাইবাছাই ছাড়া গণহারে মামলা দায়ের করলে নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সচেতন মহল বলছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা,মামলা-বাণিজ্য ও উগ্রবাদী উসকানির সংস্কৃতি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
